এই মুহূর্তে থাকার কথা ছিল প্রিয় স্ত্রীর কাছে, দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়টায়—সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে, প্রথমবার বাবা হওয়ার অপেক্ষায় প্রতিটা মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার কথা ছিল এবাদত হোসেন চৌধুরীর। কিন্তু দেশের ডাক এলে ঘরে ফেরার আগেই ব্যাগ গোছাতে হয় যাঁকে, তিনি তো একজন সৈনিক। ইতালিতে স্ত্রীর পাশ থেকে ছুটি বাতিল করে উড়াল দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পথে—জীবনের মতোই ক্রিকেটেও যেন বারবার দেশকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন এই বিমান বাহিনীর সাবেক সেনা।
আর এই মানসিকতাটা নতুন নয় এবাদতের কাছে। ২০২২ সালে বে ওভালে নিউজিল্যান্ডকে তাদেরই মাটিতে হারানোর পর ম্যাচসেরা হয়ে বলেছিলেন, তিনি জানেন কীভাবে স্যালুট দিতে হয়—কারণ দেশের প্রতিনিধিত্বের চেয়ে বড় গর্ব তাঁর কাছে আর কিছু নেই।
সফরের আগে দলে থাকারই কথা ছিল না তাঁর। বিসিবির কাছে আগেভাগেই পিতৃত্বকালীন ছুটি চেয়ে নিয়েছিলেন এবাদত। কিন্তু ক্রিকেট মাঝেমধ্যে এমন মোড় নেয় যা কেউ ভাবেনি—নাহিদ রানা আর শরিফুল ইসলাম চোটে ছিটকে গেলেন অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে, আর নির্বাচকদের অনুরোধে নিজের সেই ছুটি বাতিল করে আবার দলে ফিরলেন তিনি।

তবে সাম্প্রতিক ছন্দটা এবাদতের পক্ষে খুব একটা কথা বলছে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ টেস্টে, যেখানে বাংলাদেশ ইনিংস ও ৮৫ রানের লজ্জাজনক হারে মাঠ ছেড়েছিল, সেখানে তাইজুল ইসলামের সাত উইকেটের কীর্তির ছায়ায় প্রায় নীরবই থেকে যান এবাদত, উইকেটের খাতায় নিজের নামটা তেমন লেখাতে পারেননি। চোট-আঘাতের ধকল কাটিয়ে সেই আগের ধারও এখনো পুরোপুরি ফিরে পাননি তিনি।
তবে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনটা এবাদতের পক্ষেই কথা বলতে পারে। গতি আর বাউন্সে ভরা এই উইকেটগুলো ঠিক তাঁর মতো লম্বা আর জোরে বল করা পেসারদের জন্যই তৈরি, যেখানে উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগিয়ে ব্যাটসম্যানের বুক বরাবর বল তোলার সামর্থ্য বাড়তি ভরসা জোগাতে পারে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
পেস আক্রমণে তাসকিন আহমেদ, খালেদ আহমেদ ও হাসান মাহমুদ এমনিতেই আছেন স্কোয়াডে নিয়মিত মুখ হিসেবে। বাড়তি একটা জায়গার জন্যই আসল লড়াইটা—অভিজ্ঞ এবাদত, নাকি তরুণ গতিময় মুশফিক হাসান, যিনি অভিষেকের অপেক্ষায়। সাম্প্রতিক ছন্দের বিচারে হাসান মাহমুদের নাম আলাদা করে বলতেই হয়—ইংল্যান্ডের মাটিতে কেন্টের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই দুই ইনিংস মিলিয়ে তুলে নিয়েছেন ৯ উইকেট, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ছুঁয়েছেন ১০০ উইকেটের মাইলফলকও। এমন ছন্দে থাকা আক্রমণে নির্বাচকদের সিদ্ধান্তটা তাই সহজ নয়—পুরোনো যোদ্ধা এবাদতকে নিয়ে জুয়া খেলবেন, নাকি তরুণ মুশফিকে আস্থা রাখবেন?

তবে এটুকু নিশ্চিত, একাদশে সুযোগ পেলে এই সফরটা এবাদতের কাছে স্রেফ আরেকটা ম্যাচ নয়। স্ত্রীর পাশে না থেকে, বাবা হওয়ার সেই মুহূর্ত মিস করে যে মূল্য তিনি দিচ্ছেন, তাঁর হাতে বল উঠলে সেই পুরোনো স্যালুট আরেকবার দেখা যাবে কি না—২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার কঠিন উইকেটে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।











