বাউন্ডারির বৃষ্টিতে ডারবানের আকাশ ছুলেন মিশেল মার্শ!

২৯৮ রানের লক্ষ্য স্কোরবোর্ডে দেখতে বিশালই লাগছিল। মিশেল মার্শ ব্যাট হাতে নামলেন যেন সেই পাহাড়কে পানির মত সহজ বানাতেই।অধিনায়ক হিসেবে আজ মাঠে নামা মার্শ ৩৬ বলে ৬০ রান করে ফিরলেন, আর তাঁর ব্যাটেই পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ৯০ রানে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। 

২৯৮ রানের লক্ষ্য স্কোরবোর্ডে দেখতে বিশালই লাগছিল। মিশেল মার্শ ব্যাট হাতে নামলেন যেন সেই পাহাড়কে পানির মত সহজ বানাতেই।অধিনায়ক হিসেবে আজ মাঠে নামা মার্শ ৩৬ বলে ৬০ রান করে ফিরলেন, আর তাঁর ব্যাটেই পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই ৯০ রানে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।

শুরুটা মন্থর ছিল, প্রথম ওভারে একটা চার ছাড়া তেমন কিছুই হয়নি। কিন্তু ছবিটা বদলে গেল যখন মার্কো ইয়ানসেনের ওভারে হাত খুললেন মার্শ। লং অফের ওপর দিয়ে এক ছক্কা, এরপর ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে আরেকটা, তারপর দুটো চার মিলিয়ে ইয়ানসেনের এক ওভার থেকেই এল সতেরো রান। যে ইয়ানসেন নিজে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৯৭-এ পৌঁছে দিয়েছিলেন, বল হাতে তাঁর শুরুর তিন ওভারেই খরচ হলো তেত্রিশ রান, তার মধ্যে ত্রিশই এল মার্শের বাউন্ডারি থেকে।

চার ওভারের মাথায় ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে আরেকটা ছক্কা উড়ে গেল, এরপর পুল শটে আরও একটা, সঙ্গে দুটো চার। এক ওভারেই সাতাশ রান তুলে নিলেন মার্শ একাই।

তারপর এল সেই শটটা, যার জন্য পুরো গ্যালারী সহ সকলেই আকাশের দিকেই তাকিয়ে ছিলো দীর্ঘক্ষন। শর্ট বলে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ১০৪ মিটার লম্বা এক ছক্কা, বল গিয়ে আঘাত করল ছাদে। ৩১ বলে ফিফটি, ক্যারিয়ারের বাইশতম, ওই ওভারের শেষ বলেও আরেকটা ছক্কা, এবার ৮৮ মিটার।

৬০ রানের ইনিংসে পাঁচটা চার, ছয়টা ছক্কা, মানে ৬০ রানের মধ্যে ৫৬ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে। বল টাইমিং করার চেয়ে যেন উড়িয়ে দেওয়াতেই বেশি আগ্রহ ছিল তাঁর।

শেষটা অবশ্য নাটকীয়ভাবেই হলো, স্পিনের ফাঁদে পা দিলেন মার্শ, ফ্লাইট বুঝতে না পেরে ড্রাইভ করলেন বাতাসে, ক্যাচ চলে গেল কভারে দাঁড়ানো ফিল্ডারের হাতে। মাঠজুড়ে তখন উচ্ছ্বাস, উইকেটটা দক্ষিণ আফ্রিকার বড্ড দরকার ছিল

৩৬ বলে ৬০, অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ১ উইকেটে ৯০, জিততে দরকার আরও ২০৮। মার্শ ফিরে গেলেন ঠিকই, কিন্তু যে পাহাড়টা একটু আগেও অসম্ভব লাগছিল সেটাকে অনেকটাই ছোট করে দিয়ে গেছেন তিনি।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link