মুস্তাফিজের ম্যাজিক নেই!

ব্যাটারদের জন্য রান বিলিয়ে দেওয়া, একের পর এক নো বল, ওয়াইড, প্রথম ওভার শেষ করতে মুস্তাফিজুর রহমানকে করতে হলো ১১টা বল। খরচার খাতায় গেল ২৫ রান। সেমিফাইনালের মঞ্চে খলনায়ক হওয়া মুস্তাফিজ ব্রোঞ্জ জেতার লড়াইয়েও নিজের সেই রূপ বজায় রাখলেন আরও একবার।

ব্যাটারদের জন্য রান বিলিয়ে দেওয়া, একের পর এক নো বল, ওয়াইড, প্রথম ওভার শেষ করতে মুস্তাফিজুর রহমানকে করতে হলো ১১টা বল। খরচার খাতায় গেল ২৫ রান। সেমিফাইনালের মঞ্চে খলনায়ক হওয়া মুস্তাফিজ ব্রোঞ্জ জেতার লড়াইয়েও নিজের সেই রূপ বজায় রাখলেন আরও একবার। বাংলাদেশের কাছ থেকে মোমেন্টাম কেড়ে নিয়ে শ্রীলঙ্কার হাতে তুলে দিলেন। কিন্তু সব ছাপিয়ে প্রশ্ন একটাই, কী হলো মুস্তাফিজের?

১৩ ওভারে ৫৪ রান তুলেছে শ্রীলঙ্কা, বিনিময়ে খোয়াতে হয়েছে পাঁচ উইকেট। চালকের আসনে বাংলাদেশ। ১০০ রানের মধ্যেই লঙ্কানদের রুখে দেওয়ার আশাটা করা যায়। এরপরই লিটন দাস বল তুলে দিলেন মুস্তাফিজের হাতে। ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান এক লাফে চলে গেল ৮৮-তে।

ওই ওভারে তিন ওয়াইড এবং দুটো নো বল করেছেন ফিজ। এক কথায় বললে হতশ্রী এক পারফরম্যান্স দেখা গেছে সেই ওভারে। দ্বিতীয় ওভার শুরু করেছিলেন ওয়াইড দিয়ে। তবে সে যাত্রায় ১১ রানেই রক্ষে পেলেন। মন্দের ভালো মুস্তাফিজের শেষ ওভার। সাত রান দিয়ে মান বাঁচানো দুই উইকেট। সব মিলিয়ে তিন ওভারে বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৪৩ রানের বিনিময়ে দুই উইকেট।

একটু সেমিফাইনালের দিকে ফিরে যাই, মাত্র দুই ওভার বল করে ৪১ রান দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের হাতে থাকা ম্যাচটাকে সেবারও ছুড়ে ফেলেছিলেন পাকিস্তানের জন্য। এক ম্যাচে এমন হতেই পারে, এই বলে ব্যাপারটা ধামাচাপা দেওয়া যেত, তবে এই ম্যাচে যেটা করলেন তা একপ্রকার অপরাধ। বল কোথায় ফেলবেন, কোন লাইন লেন্থে ব্যাটারকে আটকে রাখা যাবে এসবের কোনো বালাই তো ছিল না, উল্টে শ্রীলঙ্কার জন্য রানমেশিন হয়েছেন।

এমন কী হলো ফিজের? এতটা এলোমেলো হলেন কী করে? বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলারের এই দশা অন্তত মেনে নেওয়া যায় না। দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে ছিলেন ইনজুরির কারণে, ওটাই তাঁকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে, নাকি সমস্যাটা অন্য জায়গায়? ম্যাজিকটা শেষের পর্যায়? সে যাই হোক, মুস্তাফিজের এমন পারফরম্যান্স টানা দুই ম্যাচেই বাংলাদেশকে ডুবিয়েছে, এই নির্মম সত্যটা মেনে নেওয়া কষ্টেরই।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link