বিশ্বফুটবল কাঁপাতে প্রস্তুত আলবিসেলেস্তে পাইপলাইন

ছাইভস্ম ফুঁড়ে রক্তচক্ষু মেলছে নতুন সূর্য! লা বোম্বোনেরার উত্তাল চত্বর আর রিভার প্লেটের গ্যালারি কাঁপিয়ে ইতিমধ্যেই তৈরি হচ্ছে এক ঝাঁক রক্তগরম তরুণ, যাদের পায়ে ফুটবলের নতুন 'জাদু' দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।

অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া গত হয়েছেন, নিমিষেই অস্ত যাবে মেসি নামক সূর্যও। কিন্তু রাজার বিদায়ে সাম্রাজ্য কি থেমে থাকে? ছাইভস্ম ফুঁড়ে রক্তচক্ষু মেলছে নতুন সূর্য! লা বোম্বোনেরার উত্তাল চত্বর আর রিভার প্লেটের গ্যালারি কাঁপিয়ে ইতোমধ্যেই তৈরি হচ্ছে এক ঝাঁক রক্তগরম তরুণ, যাদের পায়ে ফুটবলের নতুন ‘জাদু’ দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।

  • আলেহান্দ্রো গারনাচো

ভয়ডরহীন মানসিকতা আর বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং দিয়ে ইতিমধ্যেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের আকাশ লাল করেছেন গারনাচো। সেই সাথে চেলসি পেরিয়ে ইতোমধ্যে এস্টন ভিলায় তরী ভিড়িয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ইয়াংস্টার। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স দু’ভাগ করে বক্সে ঢুকে বিষাক্ত সব শট নেওয়ার যে নিখুঁত স্বভাব তার, তাতে ডি মারিয়ার পরবর্তী আর্জেন্টিনার বাঁ-উইংয়ের দীর্ঘমেয়াদী উত্তরসূরি হিসেবে গারনাচোর নামটাই এখন সবচেয়ে উজ্জ্বল সম্ভাবনার।

  •  ক্লাউদিও এচেভেরি

‘এল ডিয়াব্রিটো’ বা ছোট শয়তান! নামটার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে এক অদৃশ্য আতঙ্কের ছাপ। বুয়েনস আইরেসের বুকেই যার ফুটবলের হাতেখড়ি, সেই এচেভেরির বল ড্রিবলিং আর ক্ষুরধার পাসিং সেন্স সবাইকে একঝলকে মেসির শুরুর দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। বুট জোড়ায় বল আটকে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ত্রাস সৃষ্টি করা এবং ম্যাচের ভাগ্য একা হাতে বদলে দেওয়া এই তরুণই হতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার আগামী দিনের অন্যতম প্রধান প্লেমেকার।

  • ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো

​রিভার প্লেটের কনিষ্ঠতম গোলদাতা হওয়া এই ওয়ান্ডারকিড যেন ল্যাটিন ফুটবলের খাঁটি এক ‘হীরে’। বাঁ-পায়ের জাদুকরী টাচ, বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শট আর কম বয়সেই দারুণ পরিপক্কতা তাকে সমসাময়িক যেকোনো তরুণের চেয়ে এগিয়ে রেখেছে। তাইতো এই আর্জেন্টাইন গোল্ডেন বয়কে নিজেদের করে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের মতো জায়ান্ট ক্লাব।

  • মাহের কারিজো

​ইউরোপের ঝলকানি নয়, আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলের রুট লেভেল থেকে উঠে আসা এক ধ্বংসাত্মক গোলমেশিন। আয়াক্স এর হয়ে খেলা এই আর্জেন্টাইন প্রথাগত নয় নম্বর পজিশনে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণ দুমড়ে-মুচড়ে তাঁর গোল বের করে আনার ক্ষমতা আর্জেন্টিনাকে আগামী এক দশক খাঁটি ‘নাম্বার নাইন’ এর ভরসা দেবে।

  • ভ্যালেন্তিন বার্কো

​লাল চুল, তাজা রক্ত আর চোখে জেতার উদগ্র ক্ষুধা। মাঠের বাম প্রান্তে বার্কো যেন এক জীবন্ত তুফান। লেফট ব্যাক থেকে শুরু করে উইং কিংবা মাঝমাঠ! প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ এক নিমেষে ছারখার করে দেওয়ার সহজাত ক্ষমতা তাঁর রক্তে।

ভয়ডরহীন ট্যাকল, চোখধাঁধানো ক্রস আর দূরপাল্লার বিষাক্ত ফ্রি-কিকে প্রতিপক্ষের গোলকিপারদের আতঙ্কে রাখার মতো সব মশলাই রয়েছে বার্কোর পায়ে। ইতোমধ্যেই চেলসির হয়ে ডাক পাওয়া ও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা এই তরুণ হতে পারেন আর্জেন্টাইনদের ভবিষ্যত কান্ডারী।

এরা ছাড়াও ইতোমধ্যেই স্টার বনে যাওয়া নিকো পাজ, জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি কিংবা এজেকিয়েল ফার্নান্দেজদের মতো আরও একঝাঁক উদীয়মান প্রতিভা প্রস্তুত আর্জেন্টিনার আধিপত্য ধরে রাখতে। পুরনো জাদুকরদের বিদায় ঘটলেও নীল-সাদা সাম্রাজ্যের সূর্য সহজে অস্ত যাচ্ছে না!

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link