ব্যর্থ সাব্বিরের শেষ সুযোগ!

৩৪ বছর বয়সী সাব্বির রহমানকে নিয়ে এখনও স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। ভক্তকূলও মনে-প্রাণে চায় সাব্বির পাকাপাকিভাবে ফিরে আসুক। তবে যখনই এই আলোচনাটা আসে, তখনই সাব্বির সুযোগের প্রদীপটা ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দেন। এরপর হাহুতাশ করা ছাড়া কারও কিছুই করার থাকে না। এবারও কি সেই জিনিসটাই ঘটতে যাচ্ছে?দ

৩৪ বছর বয়সী সাব্বির রহমানকে নিয়ে এখনও স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। ভক্তকূলও মনে-প্রাণে চায় সাব্বির পাকাপাকিভাবে ফিরে আসুক। তবে যখনই এই আলোচনাটা আসে, তখনই সাব্বির সুযোগের প্রদীপটা ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দেন। এরপর হাহুতাশ করা ছাড়া কারও কিছুই করার থাকে না। এবারও কি সেই জিনিসটাই ঘটতে যাচ্ছে?

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ঘটা করেই ফিরেছেন সাব্বির রহমান। ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর জাতীয় দল তো দূরে থাক, বয়সভিত্তিক দলের কোথাও ছিলেন না। তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ এবং ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগে খেলেও বলার মতো তেমন কিছু করে দেখাতে আসলে পারেননি। সর্বশেষ বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে ১০ ম্যাচে করেছিলেন ১৩৪ রান। আর সবশেষ ডিপিএলে ১১ ম্যাচে ১৮৮।

তবে নামটা যেহেতু সাব্বির আর নামের পাশে মারকুটে ব্যাটার তকমা, সেটাই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে হাই পারফরম্যান্স দলে ঢোকার টিকিট হাতে তুলে দেয়। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটো টি-টোয়েন্টি ম্যাচও খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সাব্বির। যেখানে ফলাফল শূন্য।

প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমে ১২ বলে ১৪ রান করতে পেরেছেন। সময়, সুযোগ সবই ছিল, তবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ। দ্বিতীয় ম্যাচেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আট বলে ১২ রান করে ফিরেছেন সাজঘরে। সাব্বিরের নাম শুনলেই যে পাওয়ার হিটিং কথাটা সামনে চলে আসে। তবে মাঠের খেলায় এসব তকমা ধরাছোঁয়ার বাইরে। ১৩০ স্ট্রাইক রেটকে নিশ্চয় হাইলি রেট করা যাবে না। আর বড় বড় ছক্কা হাঁকানোর কথা বলে আসলেও সিরিজে একটা ছক্কাও হাঁকাতে পারেননি।

তবে সুযোগটা এখনও তাঁর ঘাড়ের উপর বসে আছে। সামনেই টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। সেই দলেও নাম উঠেছে সাব্বিরের। এই সুযোগটা শেষ সুযোগ বললেও ভুল হবে না। এবার যদি ব্যর্থ হন, তবে চিরতরেই জাতীয় দলের ফেরার রাস্তাটা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা অবশ্য আগেই হতে পারত, যদি না নামটা সাব্বির হতো।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে কোচ সোহেল ইসলাম বলেছিলেন, সাব্বির এখন বেশ ম্যাচিউর। শেখার আগ্রহ আগে থেকেই ছিল, এখনও সেটা আছে। তবে আগের সাব্বির আর বর্তমানের সাব্বিরের তফাৎ বোঝাতে ম্যাচিউরিটি শব্দটাকে টেনে এনেছিলেন শুধু।

মাঠের খেলায় সাব্বির কি ম্যাচিউরিটি দেখাতে পেরেছেন? দুই ম্যাচে নজর রাখলে উত্তরটা হয়তো না আসবে। সামনে নিজের পরিপক্কতা জাহির করার একটা সুযোগ তিনি পাচ্ছেন। এবারও কি হেলায় হারাবেন? যদি সত্যিই আগের থেকে ম্যাচিউর হয়ে থাকেন, তবে এবার অন্তত কিছু একটা করে দেখানো উচিত।

প্রত্যাশা, আশা-ভরসা। এসব শব্দগুলো সাব্বিরকে কেন্দ্র করে এখনও ঘুরছে। মাঠের বাইরে সাব্বির নিজেকে পালটে ফেলেছেন বলেও ঘোষণা দিচ্ছেন। তবে ক্রিকেট মাঠ এসবের ধার ধারে না। প্রতিটা দিন নতুন করে চ্যালেঞ্জ নিতে হয়, যারা জেতে তারাই টিকে থাকে। সাব্বিরের সামনে এবার টিকে থাকার শেষ একটা সুযোগ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ব্যর্থ হয়েছেন ঠিকই, এবার সেটার উপর সফলতার প্রলেপ এঁটে দিতে পারবেন কি তিনি?

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link