কৌশলের সুতোয় বোনা নবীন বার্সার স্বপ্ন

শক্তিমত্তা বৃদ্ধি আর বিশ্বজয়ী তরুণদের পারফরম্যান্স - সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ মৌসুমে এক নতুন আত্মবিশ্বাসী বার্সেলোনাকে দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা।

শক্তিমত্তা বৃদ্ধি আর বিশ্বজয়ী তরুণদের পারফরম্যান্স – সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ মৌসুমে এক নতুন আত্মবিশ্বাসী বার্সেলোনাকে দেখার অপেক্ষায় সমর্থকেরা। তবে ট্রফি জেতার মতো পরিপূর্ণ একটি দল হয়ে উঠতে গেলে মাঠের কৌশলগত সাফল্য এবং কিছু নির্দিষ্ট পজিশনের শূন্যতা পূরণে মেলাতে হবে এক সূক্ষ্ম হিসাব।

দল বাড়লেও ডাগআউটের আসল ট্যাকটিক্যাল মাথাব্যথা শুরু হচ্ছে মাঝমাঠ ও অ্যাটাকিং থার্ডের পজিশন বিন্যাস নিয়ে। গত মৌসুমে মাঝমাঠের রক্ষণে এবং পেস বজায় রাখতে তরুণ মার্ক বার্নালের ওপর বড় আস্থা রেখেছিলেন ফ্লিক।

আবার বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর প্রথম পছন্দ হিসেবে দানি ওলমোকে প্রধান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকেই। তবে নিউক্যাসেল থেকে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে আনা অ্যান্থনি গর্ডনকে যদি বাঁ-উইংয়ে শুরু থেকেই খেলাতে হয়, তবে ফর্মে থাকা রাফিনহাকে সরিয়ে আনতে হবে অ্যাটাকিং মিডফিল্ড বা নম্বর টেন পজিশনে।

এই সমস্যা সমাধান করতে পারলে ফ্লিকের প্রিয় ৪-২-৩-১ কিংবা ৪-৩-৩ ফর্মেশনে আক্রমণভাগে যে গতি তৈরি হয়েছে, তাতে প্রতিপক্ষের হাই লাইন রক্ষণ মুহূর্তেই চুরমার করে দেওয়া সম্ভব। দুই প্রান্তে গর্ডন ও ইয়ামালের গতি এবং মাঝমাঠে পেদ্রির ক্রিয়েটিভিটি সেই সাথে রড্রি যুক্ত হলে ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড সামাল দেওয়া – সব মিলিয়ে বার্সার আক্রমণকে অত্যন্ত বহুমুখী ও ব্যালেন্সড করে তুলেছে

তবে দল সামগ্রিকভাবে শক্তিশালী ও ব্যালেন্সড হলেও মূলত দুটি পজিশনে বেশ বড় পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে বার্সাকে।গর্ডন বা আদেয়েমি মূলত উইঙ্গার বা সেকেন্ডারি স্ট্রাইকার হিসেবে দারুণ, কিন্তু বক্সে শারীরিক শক্তি দিয়ে জায়গা তৈরি করা কিংবা জমাট রক্ষণ ভাঙার মতো কোনো খাঁটি প্রথাগত নম্বর নাইন স্ট্রাইকারের অভাব রয়েছে।

অন্যদিকে আধুনিক ফুটবলে উইং ব্যাকদের ভূমিকা অপরিসীম। ব্যাকলাইনে সেন্ট্রাল পজিশনে কুবার্সি বা ডিফেন্স লাইন শক্ত হলেও রাইট ব্যাক পজিশনে বিশ্বমানের বিকল্পের অভাব বড় ম্যাচগুলোতে কাউন্টার অ্যাটাক সামলানোর ক্ষেত্রে একটা দুর্বলতা তৈরি করতে পারে।

বিশ্বজয়ী লামিন ইয়ামাল, পাউ কুবার্সি ও দানি ওলমোর সঙ্গে রাফিনহা ও গর্ডনের মতো তুলনামূলক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের রসায়নই এই দলের বড় প্লাস পয়েন্ট। তরুণদের অদম্য শারীরিক সক্ষমতা ও ক্ষিপ্রতা পুরো ৯০ মিনিট প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার জন্য ফ্লিকের ট্যাকটিক্সে সবচেয়ে বড় জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে।

২০২৬-২৭ মৌসুমের বার্সেলোনা কেবল একটি প্রতিরক্ষামূলক দল নয়, বরং ইউরোপের যেকোনো পরাশক্তিকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার জন্য প্রস্তুত। যদি কোচ ফ্লিক ট্যাকটিক্যালি রাইট ব্যাক ও স্ট্রাইকার পজিশনের সীমাবদ্ধতাগুলো লা মাসিয়ার নতুন প্রতিভা বা ভেতরের বিকল্প দিয়ে সামলে নিতে পারেন, তবে এই ব্যালেন্সড স্কোয়াড নিয়ে লা লিগা ধরে রাখা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ পর্যন্ত লড়াই করা একেবারেই সম্ভব।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link