সমালোচনার জবাব দিয়ে পচেত্তিনোর ম্যাজিক

দুই বছর আগেও তাকে ঘিরে ছিল অনেক প্রশ্ন। ক্লাব ফুটবলে সফল এক কোচ, কিন্তু জাতীয় দলের চাপ কি সামলাতে পারবেন? ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে মেসি, এমবাপ্পে, কেইনদের মতো তারকাদের নিয়ে কাজ করা মরিসিও পচেত্তিনো কি পারবেন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে? আজ সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে মাঠের পারফরম্যান্স।

দুই বছর আগেও তাকে ঘিরে ছিল অনেক প্রশ্ন। ক্লাব ফুটবলে সফল এক কোচ, কিন্তু জাতীয় দলের চাপ কি সামলাতে পারবেন? ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে মেসি, এমবাপ্পে, কেইনদের মতো তারকাদের নিয়ে কাজ করা মরিসিও পচেত্তিনো কি পারবেন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে? আজ সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে মাঠের পারফরম্যান্স।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার লক্ষ্য ছিল একটাই—নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দলকে যতদূর সম্ভব নিয়ে যাওয়া। তবে শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে বেলজিয়াম ও পর্তুগালের কাছে হেরে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাকে। অনেকেই তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন, এই দল কি আদৌ বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে?

কিন্তু মূল আসর শুরু হতেই যেন পাল্টে যায় পুরো চিত্র। প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে, তুরস্কের কাছে হারলেও রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। আর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে দেখা গেল পচেত্তিনোর গড়ে তোলা দলের আসল চরিত্র। প্রায় ৩০ মিনিট দশজন নিয়ে খেলেও ২-০ গোলের জয়—শুধু কৌশল নয়, মানসিক দৃঢ়তা আর শৃঙ্খলারও দারুণ এক উদাহরণ। এই দলের প্রতিটি লড়াইয়েই এখন স্পষ্ট পচেত্তিনোর ছাপ।

তবে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা এখনও বাকি। যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের ইতিহাসে রাউন্ড অব ১৬ যেন এক অদৃশ্য দেয়াল। ১৯৯৪, ২০১০, ২০১৪ ও ২০২২—চারবার এই পর্যায়ে উঠেও থেমে যেতে হয়েছে তাদের। শুধু ২০০২ সালেই তারা পৌঁছেছিল কোয়ার্টার-ফাইনালে। এরপর আর সেই বাধা পেরোনো হয়নি।

এবার সেই ইতিহাস বদলে দেওয়ার দায়িত্ব মরিসিও পচেত্তিনোর কাঁধে। নিজের ঘরের মাঠে, নিজের প্রথম বিশ্বকাপেই কি তিনি ভাঙতে পারবেন দুই দশকের সেই অচলাবস্থা? এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link