২০১৬ বিপিএলের পর রিয়াদের দাম হতো কোটি টাকা!

প্রায় অবিক্রিত থেকে যাচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু ধরুণ সময়টা পিছিয়ে গেল, ২০১৬ সালের বিপিএল শেষ হয়েছে, পরের বছরের জন্য নিলাম হচ্ছে। তখন সম্ভবত বেশ চড়া মূল্যেই বিক্রি হতেন মাহমুদউল্লাহ।

প্রায় অবিক্রিত থেকে যাচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু ধরুণ সময়টা পিছিয়ে গেল, ২০১৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শেষ হয়েছে, পরের বছরের জন্য নিলাম হচ্ছে। তখন সম্ভবত বেশ চড়া মূল্যেই বিক্রি হতেন মাহমুদউল্লাহ। কেননা আগের মৌসুমে যে তিনি ছিলেন অন্যতম পারফরমার। বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দলকে তুলেছিলেন প্লে-অফ অবধি। এমন একজন অধিনায়ক ম্যাটেরিয়াল- যেকোন দলের টপ প্রায়োরিটি।

২০১৭ সালের বিপিএল দূর্দান্ত কেটেছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্সের জার্সি গায়ে। ব্যাটে-বলে সমানতালে তিনি পারফরম করে গেছেন পুরো আসরজুড়ে। দলের প্রয়োজন মেটাতে, পরিস্থিতির চাহিদা মেনে প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেছিলেন রিয়াদ। অধিকাংশ সময়েই তাকে ইনিংস বিল্ডআপের কাজটা করতে হয়েছে। যার কারণে তার স্ট্রাইকরেট ১১৮.২০ এর বেশি হওয়ার সুযোগ পায়নি।

তবে তিনি ছিলেন ভীষণ ধারাবাহিক। ৩৩ গড়ে তিনি রান তুলে গেছেন গোটা আসরজুড়ে। টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন রিয়াদ। নামের পাশে শোভা পাচ্ছিল ৩৯৬ রান। দুইটি ফিফটির কল্যাণেই এতটা পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতা আন্দাজ করে নিতে খুব একটা বেগ পোহাতে নিশ্চয়ই হচ্ছে না।

অধিনায়ক হিসেবে তার উপর বাড়তি দায়িত্ব ছিল। বল হাতেও পারফরমেন্স করার চাপ ছিল। সেই চাপ সামলে দশটি উইকেট নিজের নামে করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। স্রেফ ৭.৪১ ইকোনমি রেট ছিল তার। দলকে দুই নম্বর পজিশনে রেখে প্লে-অফে তুলেছিলেন। কিন্তু প্লে-অফে খেই হারায় দলটি।

তবে দারুণ প্রশংসিত হয়েছিল রিয়াদের নেতৃত্ব। তার পরের আসরেও তিনি দলকে তুলেছিলেন প্লে-অফে। টানা দুই প্লে-অফ রিয়াদের জন্য উন্মোচিত করে দেয় নতুন দুয়ার। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব ওঠে তার হাতে। মাশরাফি বিন মর্তুজার পর তাকে দেওয়া হয় টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব।

টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হিসেবে এখন অবধি সর্বোচ্চ ৪৩টি ম্যাচে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন টাইগারদের। এর মধ্যে ১৬টি ম্যাচ জিতেছিল তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল। নিদেনপক্ষে ২৫ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়কদের মধ্যে জয়ের শতকরা হিসেবে তিনি তৃতীয় সফল অধিনায়ক ছিলেন।

২০১৬ সালে কাঁটানো রিয়াদের মৌসুমটি পূর্ণতা পেতে পারত শিরোপার ছোঁয়ায়। কিন্তু শেষ অবধি আর তেমনটি ঘটেনি। সব পাওয়া শেষেও কিছু একটা ছুটে যাওয়ার আক্ষেপের দলা পাকিয়ে নিশ্চয়ই ছিল রিয়াদের বুকের মধ্যখানে। কিন্তু পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে অপ্রাপ্তির হিসেব না কষে, তিনি প্রতিবার নেমেছেন ময়দানে- নতুন কোন প্রাপ্তির অন্বেষণে।

Share via
Copy link