কুইন্স পার্কে শফিক ও বাবরের তাণ্ডব!

দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান ২ উইকেটে ২৬৬, পিছিয়ে মাত্র ৭৮ রানে, হাতে আট উইকেট। প্রথম টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ডুবে যাওয়া দলটা কি তবে এই টেস্টেই ফিরে পাচ্ছে হারানো আত্মবিশ্বাস?

কুইন্স পার্ক ওভালের সবুজ গ্যালারিতে যখন বিকেলের আলো হারিয়ে যাচ্ছিল, ততক্ষণে আবদুল্লাহ শফিকের ব্যাট থেকে বেরিয়ে এসেছে এমন এক ইনিংস, যা দিন কয়েক আগেও কল্পনায় ছিল না।  বদলী হিসেবে ক্যারিবিয়ানে উড়ে আসা এই ওপেনার যেন প্রমাণ করে দিলেন, সুযোগ পেলে সময়ের অপেক্ষা করেন না তিনি। ১৮৫ বলে অপরাজিত ১০৭, দশটি চার আর দুটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট শতক। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে বাবর আজম যেন খুঁজে পেলেন হারানো ছন্দ, ১২৬ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসটি তার ব্যাটে সবচেয়ে বড় সংগ্রহ সেই ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬১ রানের ইনিংসের পর থেকে।

অথচ দিনের শুরুটা এমন মসৃণ ছিল না। আজান আওয়াইস আর ইমাম-উল-হকের ব্যাটে ভালো শুরুর পরও চা-বিরতির আগে দুটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা টলমল করেছিল পাকিস্তান। শামার জোসেফের লিফটিং ডেলিভারিতে ফেরেন ইমাম, আর সুইপ খেলতে গিয়ে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ধরা পড়েন হাফসেঞ্চুরি করা আজান।

২ উইকেটে ১৩৯—এখান থেকেই শুরু শফিক আর বাবরের প্রতিরোধ, যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের জুটিতে। জাস্টিন গ্রিভসের চোট আর পিচের ধার কমে আসায় ওয়ারিক্যান-শামারদের ওপর ভরসা করতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, কিন্তু প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান।

এর আগে  ২৩৯ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ৩৪৪ রানে। গ্রিভসের ৭৩, চেজের ৫০ ছাড়িয়ে যাওয়া ইনিংস স্বাগতিকদের লড়াইয়ের পুঁজি দিলেও সাজিদ খানের ৮৫ রানে ৪ উইকেট শিকার শেষ পর্যন্ত লেজ ছেঁটে ফেলে দ্রুতই।

দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান ২ উইকেটে ২৬৬, পিছিয়ে মাত্র ৭৮ রানে, হাতে আট উইকেট। প্রথম টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ডুবে যাওয়া দলটা কি তবে এই টেস্টেই ফিরে পাচ্ছে হারানো আত্মবিশ্বাস?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link