প্রথম দুই বলেই চার আর ছক্কা! প্রথম পাঁচ বল থেকেই এলো ১৪ রান। মনে হচ্ছিল, ভুলে যাওয়ার মতোই দিন কাটাতে হবে শেখ মেহেদীকে। তবে তিনি ঘুরে দাঁড়ালেন প্রথম ওভারের শেষ বলেই, এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
মেহেদীর হাত ধরেই বোলিং ইনিংসের শুরু করে বাংলাদেশ। যেভাবে চড়াও হয়েছিল জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার, তাতে বাংলাদেশের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছিল বইকি। তবে ১৪ রান খরচা করলেও মারুমানির উইকেটটা সে যাত্রায় নিয়ে নেন মেহেদী। ওটাই যেন বদলে দিল তাঁকে।
পরের ওভারে যখন এলেন, মাত্র তিন রান খরচায় তুলে নিলেন আরও একখানা শিকার। ডিওন মায়ার্সকে নিজের ক্লাসিক আর্ম বলে সম্পূর্ণ পরাস্ত করেন সেবার। তৃতীয় ওভারে কোনো উইকেটের দেখা না পেলেও তিন রানের বেশি আর দিলেন না তিনি। শুরুর সব হিসাব যেন সুদে-আসলে আদায় করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠলেন।

নিজের শেষ স্পেলে এসে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে তুলে দেন এই অফস্পিনার। সেট ব্যাটার রায়ান বার্লকে চাপে রেখে এক প্রান্ত আটকে দেন, আর অন্য প্রান্তে ক্লাইভ মাদান্দেকে ফাঁদে ফেলেন। তাতেই তিন উইকেট ঝুলিতে চলে আসে অনায়াসে।
দিনশেষে মেহেদীর বোলিং ফিগার দাঁড়ায় চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট। প্রথম ওভারে ১৪ রান খরচ করার পর পরের তিন ওভারে তিনি দিয়েছেন মাত্র ১০ রান, তুলে নিয়েছেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। টি-টোয়েন্টির মতো ব্যাটারদের খেলায় এমন প্রত্যাবর্তনই একজন মানসম্পন্ন বোলারের পরিচয় বহন করে।
শুধু উইকেটই নয়, নিজের লাইন-লেংথ, গতির পরিবর্তন এবং আর্ম বলের দুর্দান্ত ব্যবহারে জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের বারবার বিভ্রান্ত করেছেন শেখ মেহেদী। ওতেই রান তাড়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের জন্য। টি-টোয়েন্টিতে শেষ হাসিটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই হাসিটা এদিন বাংলাদেশের পক্ষে গেল, যার অন্যতম প্রধান কারিগর শেখ মেহেদীই।











