শঙ্কার মেঘ সরিয়ে দিলেন রিশাদ!

ক্রিকেট আকাশে ডানা মেলে উড়ছিলেন রিশাদ হোসেন। তবে হঠাৎ যেন কী হলো! বিবর্ণতা ছেয়ে গেল রিশাদকে। এবার ডানা মেলা রিশাদকে নিয়ে সংশয় জাগে, ফুরিয়ে কিংবা হারিয়ে যাবেন না তো! মোক্ষম সময়ে জবাবটা দিলেন রিশাদ।

ক্রিকেট আকাশে ডানা মেলে উড়ছিলেন রিশাদ হোসেন। তবে হঠাৎ যেন কী হলো! বিবর্ণতা ছেয়ে গেল রিশাদকে। এবার ডানা মেলা রিশাদকে নিয়ে সংশয় জাগে, ফুরিয়ে কিংবা হারিয়ে যাবেন না তো! মোক্ষম সময়ে জবাবটা দিলেন রিশাদ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো বোলিং করে সরিয়ে দিলেন কালো মেঘ।

প্রথম ওভারেই নিজের উপস্থিতি জানান দেন রিশাদ। ভয়ংকর হয়ে ওঠা অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে তুলে নেন তিনি। তবে ওটা কেবল ট্রেলার ছিল। পরের স্পেলে দুর্দান্ত ফ্লাইটে বোকা বানান মিল্টন শুম্বাকে। বল গিয়ে সোজা আঘাত হানে স্টাম্পে।

তবে গলার কাঁটা হয়ে ওঠেন রায়ান বার্ল। তাঁকে শিকার বানান নিজের তৃতীয় ওভারেই। মূলত যতবারই জিম্বাবুয়ে একটু উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়েছে, ততবার তাদের মাটিতে ফেলেছেন রিশাদ।

প্রথম তিন ওভারে তিন উইকেট নিয়েও ক্ষান্ত হলেন না রিশাদ। ইনিংসের একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে শেষ পেরেকটাও ঠুকে দেন তিনিই। ব্লেসিং মুজারাবানিকে বোল্ড করে বাংলাদেশের ৩৪ রানের জয় নিশ্চিত করেন রিশাদ। সেই উইকেটের সঙ্গে শেষ হয় জিম্বাবুয়ের ইনিংসও। ৩.৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে চার উইকেট—সংখ্যাটা যেমন চোখে লেগে থাকার মতো, তার চেয়েও বড় ছিল উইকেটগুলোর গুরুত্ব।

রিশাদের এই স্পেল অবশ্য আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্পও। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নামের পাশে প্রত্যাশামতো পারফরম্যান্স ছিল না। তাই তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন। কী হলো তাঁর? এর উত্তর পাওয়া যাচ্ছিল না কোথাও। এমনকি নিরুপায় হয়ে তাঁকে বসিয়ে দেয় ম্যানেজমেন্ট।

তবে সিরিজ বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফিরে এলেন। এসেই বাজিমাত। যতবারই চাপ ঘাড়ে আসে, বড় মঞ্চ পান, ততবারই তো জ্বলে ওঠেন। এ আর নতুন কী! সেই পুরোনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি করলেন, আর সেই সঙ্গে দূর হলো রিশাদের অফফর্মে থাকার বড় এক অস্বস্তি। এবার ডানা মেলে উড়তেই পারেন রিশাদ।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link