পুরোনো লিটন, নতুন দায়িত্ব!

লিটন দাসকে নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা তার ব্যাটিং নয়, বরং তার নেতৃত্ব। ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ কি অবশেষে একজন দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়ক পেল, নাকি আবারও নেতৃত্বের অনিশ্চয়তার গল্পই অপেক্ষা করছে?

লিটন দাসকে নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা তার ব্যাটিং নয়, বরং তার নেতৃত্ব। ২০২৭ বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ কি অবশেষে একজন দীর্ঘমেয়াদি অধিনায়ক পেল, নাকি আবারও নেতৃত্বের অনিশ্চয়তার গল্পই অপেক্ষা করছে?

দশ বছর আগে দিনাজপুর থেকে ঢাকায় আসা ছেলেটা আর আজ ২০২৭ বিশ্বকাপের পরিকল্পনা করা অধিনায়ক—লিটন দাসের ভাষায়, মানুষটা একই। বদলেছে শুধু দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্বই এখন তাকে পুরো ড্রেসিংরুমের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। লিটন কখনোই বেশি কথা বলা মানুষ নন। অকারণ আড্ডা বা নিজেকে সামনে এনে নেতৃত্ব দেওয়া তার স্বভাব নয়। বরং যাকে যখন প্রয়োজন, ঠিক তখনই পাশে দাঁড়ান। ক্রিকেটে সব অধিনায়ককে উচ্চস্বরে কথা বলতে হয় না, অনেক সময় সঠিক মুহূর্তে বলা কয়েকটি কথাই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

এই পরিবর্তনের পেছনে ব্যক্তিগত জীবনও বড় ভূমিকা রেখেছে। বাবা হওয়ার পর নিজেকেও অনেক বদলে যেতে দেখেছেন লিটন। তার ভাষায়, আগে খারাপ সময় তাকে বেশি ভুগাত, এখন দিনের শেষে মেয়ের মুখ দেখলেই সেই চাপ অনেকটাই দূর হয়ে যায়। একজন অধিনায়কের জন্য এই মানসিক পরিণতিটাই হয়তো সবচেয়ে বড় সম্পদ, কারণ নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা হয় কঠিন সময়ে।

অধিনায়ক হিসেবে লিটনের প্রথম অভিজ্ঞতাও ছিল ইতিবাচক। ২০২২ সালে তামিম ইকবালের চোটে ভারতের বিপক্ষে হঠাৎই দায়িত্ব পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে বাংলাদেশকে সিরিজ উপহার দেন। সেই ছোট্ট অধ্যায়েই চাপ সামলানোর সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি।

তবে এবারের চ্যালেঞ্জটা অনেক বড়। কারণ বাংলাদেশ খুব কাছ থেকেই দেখেছে, বিশ্বকাপের আগে নেতৃত্বের অনিশ্চয়তা কীভাবে পুরো দলকে প্রভাবিত করতে পারে। ২০১৯ বিশ্বকাপে মাশরাফি বিন মুর্তজার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিকল্প নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। আর ২০২৩ বিশ্বকাপের আগে সাকিব আল হাসান-তামিম ইকবাল ইস্যু মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল, যার প্রভাব পড়েছিল দলীয় পরিবেশেও। তাই এবার শুরু থেকেই একটি স্থিতিশীল নেতৃত্ব গড়ে তোলাই বড় লক্ষ্য।

তবে লিটনের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটা হতে পারে তার নিজের ব্যাট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কত্বের বাড়তি চাপ অনেক সময় ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশেও এমন উদাহরণ আছে, আবার নাজমুল হোসেন শান্ত দেখিয়েছেন অধিনায়ক হয়েও ব্যাট হাতে আরও সফল হওয়া সম্ভব। লিটন কোন পথে হাঁটবেন, সেটাই দেখার।

এর সঙ্গে আছে ফিটনেসের চ্যালেঞ্জও। গত এক বছরে একাধিক চোটে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। তাই আগামী ১৫ মাসে শুধু দল গড়াই নয়, নিজের শরীর ও পারফরম্যান্স ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৭ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ শুধু একজন ব্যাটসম্যান নয়, একজন স্থির ও নির্ভরযোগ্য অধিনায়ককেও খুঁজবে লিটন দাসের মধ্যেই।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link