জোরালো আবেদন, আম্পায়ার হাত উঁচু করলেই হাসান মাহমুদের ইতিহাস লেখা হবে। তবে না, আবেদন নাকচ করে দিলেন আম্পায়ার। রিভিউ নিল বাংলাদেশ, সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হলেন আল্লাহউদ্দিন পালেকার, তাতেই লেখা হলো হাসান মাহমুদের হ্যাটট্রিকের কীর্তি। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টানা তিন বলে তিন উইকেট নেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি।
বল হাতে সাদা পোশাকে অবিশ্বাস্য ফর্মে আছেন হাসান। যেখানেই হাত দেন, সেখানেই যেন সোনা ফলছে। আর বিপর্যস্ত হচ্ছে প্রতিপক্ষ। এবার সেই রোষানলে পড়ল আফগানিস্তান। তৃতীয় দিনের সকালে নতুন বল হাতে নিয়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে তাণ্ডব চালাতে শুরু করেন হাসান। ৮২তম ওভারের তৃতীয় বলে ইসমত আলমকে বোল্ড করে প্রথম আঘাতটা হানেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে পড়া বলটি পিচে পড়ে সামান্য নিচু হয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। ব্যাট নামানোর আগেই ভেঙে যায় স্টাম্প!

পরের বলেই আবারও উইকেট! এবার শিকার কায়েস আহমদ। অফ স্টাম্প করিডরের বল ব্যাটের কানায় লেগে উড়াল দেয় উইকেটের পেছনে। তবে সেখানে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে অপেক্ষায় ছিলেন লিটন দাস। লুফে নেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ। দুই বলে দুই উইকেট! হাসানের সামনে তখন ইতিহাসের হাতছানি।
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ছোঁয়া হবে কি? অলোক কাপালি, সোহাগ গাজীর পর সাদা পোশাকে হ্যাটট্রিক করবেন হাসান? প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে হবেন কি ইতিহাস? এমন সব প্রশ্ন ডালপালা মেলতেই বল সোজা আছড়ে পড়ে ব্যাটার জিয়াউর রহমানের প্যাডে। জোরালো আবেদন কানে বাজতে থাকলেও আম্পায়ার আঙুল উঁচু করলেন না।

নাজমুল হোসেন শান্ত দেরি না করে রিভিউ নিলেন। বল স্টাম্পের ওপর দিয়ে যাবে, এমন সংশয় থাকলেও সেটা উবে যায়। তাতেই হাসানের অবিশ্বাস্য, অভূতপূর্ব কীর্তির জন্ম হয়। টানা তিন বলে তিন উইকেট, শুধু তাই নয়, ৮২তম ওভারটাতে কোনো রানই দেননি। সাদা পোশাকে হাসান বাংলাদেশের সেরা অস্ত্র, সেই প্রমাণ তো আগেই দিয়েছেন। এই হ্যাটট্রিকে সেই প্রমাণপত্রের পালে আরেকটু হাওয়া যোগ করল, এই যা।










