যে জয়টা মায়ের জন্য!

একজন ফুটবলারের জীবনে দেশের জার্সি সবচেয়ে বড় গর্বের। কিন্তু সেই গর্বেরও ওপরে থাকে মা।

তখন জাতীয় সংগীত বাজছে। বুকের ওপর হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু এদিন শুধু জাতীয় সংগীতের আবেগ ছিল না, ছিল এক অসহনীয় শোকের ভারও। সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা ফুটবলারদের মাঝে একজনের চোখে তখন অশ্রুর বন্যা। সেই চোখে কোনো পরাজয়ের ভয় ছিল না, ছিল শুধু মাকে হারানোর বেদনা।

তিনি শিউলি আজিম। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালের মাত্র দুই দিন আগে পৃথিবীর সবচেয়ে আপন মানুষটিকে হারিয়েছেন বাংলাদেশের এই ডিফেন্ডার।

একজন ফুটবলারের জীবনে দেশের জার্সি সবচেয়ে বড় গর্বের। কিন্তু সেই গর্বেরও ওপরে থাকে মা। যে মা ছোটবেলায় হাত ধরে মাঠে নিয়ে গেছেন, যে মা প্রতিটি ম্যাচের আগে দোয়া করেছেন, যে মা মেয়ের সাফল্যে সবচেয়ে বেশি হাসতেন, সেই মানুষটিই আর নেই এই পৃথিবীর কোথাও।

সবচেয়ে নির্মম বাস্তবতা হলো, শেষবারের মতো মায়ের মুখটাও দেখতে পারেননি শিউলি। দেশের জন্য, দলের জন্য, দায়িত্বের জন্য তিনি রয়ে গেছেন দলের সঙ্গে। বুকের ভেতর কান্নার পাহাড় চাপা দিয়েছেন।

সতীর্থ থেকে গোটা দেশ সবাই উপলব্ধি করেছে, শোক কী জিনিস, মা হারানোর ব্যথা কতখানি পীড়া দেয় বুকে! যার যায় সেই বোঝে, তবে শিউলির যে একার যায়নি, গোটা বাংলাদেশই হারিয়েছে মমতাময়ী এক মাকে।

তাই তো নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশ শুধু ফাইনালে যাওয়ার জন্য খেলেনি। খেলেছে শিউলির জন্য, শিউলির মায়ের জন্য। এই ঋণ তো পরিশোধযোগ্য নয়, এই ক্ষত মুছে যাওয়ার নয়। কেবল একটা জয় বেদনার দেয়ালে একটুখানি প্রলেপ দিতে পারত।

বাংলাদেশ জিতেছে, আরও একবার সাফের ফাইনালে পা রেখেছে। হয়তো দূর আকাশের কোথাও বসে মুচকি হাসছেন শিউলির মা, তাঁর মেয়ে যে জিতেছে। মায়ের কাছে সন্তানের সাফল্য যে স্বর্গের সুখকেও হার মানায়।

শিউলি দেখিয়েছেন দেশ আর মা, এই দুটো জিনিস তো একই। এক মা চলে গেছেন, ফিরিয়ে আনা যাবে না জেনে থেকে গেছেন আরেক মাকে জেতাবেন বলে। তাঁর শোকই যে শক্তি হয়ে ধরা দিয়েছে বাংলাদেশের কাছে। তাই তো ম্যাচ শেষে ঋতুপর্ণা চাকমা এই জয় উৎসর্গ করেছেন শিউলির মায়ের জন্য।

বাংলাদেশ যদি এবার শিরোপা জেতে, তবে সেই ট্রফিতে চিরকাল থেকে যাবে একজন মায়ের নাম, যিনি গ্যালারিতে নেই, টেলিভিশনের সামনে নেই, কিন্তু আকাশের কোথাও থেকে নিশ্চয়ই দেখছেন তাঁর মেয়েকে। আর শিউলি আজিম হয়তো তখন মনে মনে বলবেন, ‘মা, এই ট্রফিটা তোমার জন্য।’

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link