পেস অলরাউন্ডের দীর্ঘদিনের শুন্যতা কি পুরন করবেন রিজওয়ান ?

ক্রিকেটে সবচেয়ে রেয়ার অপশনের একটা হলো পেস বোলিং অলরাউন্ডার। অলরাউন্ডার অনেক আছেন, কিন্তু তাঁদের বেশিরভাগই স্লো বা মিডিয়াম পেসের। যিনি সত্যিকারের গতিতে বল করেন আর ব্যাটিংয়েও দলের ভরসা, এমন খেলোয়ার পুরো ক্রিকেট ইতিহাসেই হাতে গোনা। জ্যাক ক্যালিস বা বেন স্টোকসের মতো নাম তাই আলাদা করে মনে থাকে। এঁরা এক ম্যাচেই দুই বিভাগের কাজ একা করে ফেলতে পারতেন।

ক্রিকেটে সবচেয়ে রেয়ার অপশনের একটা হলো পেস বোলিং অলরাউন্ডার। অলরাউন্ডার অনেক আছেন, কিন্তু তাঁদের বেশিরভাগই স্লো বা মিডিয়াম পেসের। যিনি সত্যিকারের গতিতে বল করেন আর ব্যাটিংয়েও দলের ভরসা, এমন খেলোয়ার পুরো ক্রিকেট ইতিহাসেই হাতে গোনা। জ্যাক ক্যালিস বা বেন স্টোকসের মতো নাম তাই আলাদা করে মনে থাকে। এঁরা এক ম্যাচেই দুই বিভাগের কাজ একা করে ফেলতে পারতেন।

বাংলাদেশ এমন কাউকে খুঁজছে অনেক বছর ধরে। কখনো সৌম্য সরকারের দিকে তাকিয়েছে, কখনো সাইফউদ্দিনের দিকে, কিন্তু কাউকেই সেভাবে গড়ে তোলা যায়নি। এই শূন্যতার মধ্যেই ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে একটা নাম চোখে পড়েছিল, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান।

পঞ্চগড়ের ছেলে রিজওয়ানের জন্ম ২০০৫ সালের ৩ মে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেই বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন দলের ওপেনার, আবার বল হাতেও কাজে লাগতেন। ভারতের বিপক্ষে ৭৬ রান করা আদর্শ সিংয়ের উইকেটটা এসেছিল তাঁর হাতেই,স্পেলে ছিল  ৫ ওভারে ২৩ রান ১ উইকেট । যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে করেছিলেন ৩৫, তখন মনে হয়েছিল, হয়তো সেই কাঙ্ক্ষিত অলরাউন্ডারের দেখা মিলছে।

কিন্তু প্রতিশ্রুতির পর অপেক্ষা বাড়তে থাকল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রংপুর বিভাগের হয়ে প্রথম শ্রেণিতে অভিষেক হলো, রূপগঞ্জ আর রংপুরের হয়ে খেলা চলল, কিন্তু নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরতে পারছিলেন না। বিশ্বকাপে যে সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, সেটা ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ফিরছিল না।

এই বছরের আগস্টে ইমার্জিং দলের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তিনি আবার নজর কেড়েছেন। ওয়ানডে ট্রাই-সিরিজে চার ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে ছিলেন সিরিজের সেরা উইকেটশিকারি, গড় ১৫। ইউনিভার্সিটি স্পোর্ট সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে একটা ম্যাচে ২৮ রানে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট। চার দিনের ম্যাচে অবশ্য সেই ছন্দ দেখা যায়নি, তবে বেনোনিতে ব্যাট হাতে করেছিলেন ৩৩ ও ২৮।

আর বর্তমানে চলছে ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগ। ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে মিরপুরের ম্যাচে রংপুর শুরুতে ভালো করেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছিল, সেখান থেকে দলকে টেনে তুললেন রিজওয়ান। ১৫৬ বল খেলে করলেন ৭৫ রান, আটটা চারে সাজানো ধৈর্যের ইনিংস। তাঁর ব্যাটে ভর করেই রংপুর প্রথম ইনিংসে তুলল ৩৪০ রান। এরপর বল হাতে নেমেও থামলেন না। ছয় ওভারে ২৫ রান দিয়ে নিলেন দুই উইকেট, আনিসুল ইসলাম ইমন আর আমিনুল ইসলামকে ফিরিয়ে দিলেন।

রংপুরের কোচ নাজমুল হোসেন তাঁর পারফরম্যান্স দেখে আশা করছেন, এভাবে এগোতে থাকলে রিজওয়ান বাংলাদেশের পরবর্তী পেস বোলিং অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে পারেন। কথাটা বড়, কিন্তু একেবারে ভিত্তিহীনও নয়।

তবে এখনই তাঁকে ক্যালিস বা স্টোকসের সঙ্গে তুলনা করা তাঁর ওপর অযথা চাপ হয়ে যাবে। তাঁর বয়স মাত্র ২১। একটা ভালো ম্যাচ মানে তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা যায় কিন্তু সামনে ধারাবাহিকতার পরীক্ষা বাকি। বোলিংয়ে গতি কতটা বাড়াতে পারেন আর ব্যাটিংয়ে কতটা পরিণত হন, সেটাই ঠিক করবে তাঁর গন্তব্য।

ঠিক এই জায়গায় যদি রিজওয়ান নিজেকে নিয়ে কাজ করে যেতে পারেন, নিজের সেরা ফর্ম টা বের বের করে আনতে পারেন তাহলে  সেটা শুধু তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য নয়, পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই বড় প্রাপ্তি হবে। এমন একজন অলরাউন্ডার পেলে যেকোনো দলই লাভবান হয়, যেকোনো ফরম্যাটে, যেকোনো পরিস্থিতিতে।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link