শিকড়কে ভুলে যাননি ইয়াসিন আয়ারি!

দুই হাত তুলে যেন নীরব এক ক্ষমা প্রার্থনা করলেন ইয়াসিন আয়ারি। সুইডেনের দায় মেটালেও নিজের শিকড় তিউনিসিয়াকে ভুলে যাননি তিনি।

যে দেশ আশ্রয় দিয়েছে, সেই দেশের জন্য গোল। যে দেশের রক্ত বইছে শরীরে, সেই দেশের বিপক্ষে গোল। আর গোল করার পর? উল্লাস নেই, নেই বুক চাপড়ে উদযাপন। দুই হাত তুলে যেন নীরব এক ক্ষমা প্রার্থনা করলেন ইয়াসিন আয়ারি। সুইডেনের দায় মেটালেও নিজের শিকড় তিউনিসিয়াকে ভুলে যাননি তিনি।

বিশ্বকাপের মঞ্চে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে সুইডেনের ৫-১ গোলের বড় জয়ে জোড়া গোল করে আলো কেড়ে নিয়েছেন ইয়াসিন আয়ারি। কিন্তু ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে শুধু গোলের গল্প ছিল না, ছিল জীবনের গল্পও!

ইয়াসিন আয়ারির জন্ম সুইডেনে। কিন্তু তার পরিবারের শিকড় তিউনিসিয়ায়। বাবা আজ্জুজ আয়ারি তিউনিসিয়ার মানুষ। মা মরক্কান বংশোদ্ভূত। উত্তর আফ্রিকার সংস্কৃতি, ভাষা আর ঐতিহ্যের মধ্যেই বড় হয়েছেন ইয়াসিন। তাই ছোটবেলা থেকেই তিউনিসিয়ার সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক ছিল গভীর।

২০২১ সালে যখন তিউনিসিয়া জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ আসে, তখন সেটি গ্রহণ করতে প্রস্তুতই ছিলেন ইয়াসিন। যে কোনো তরুণ ফুটবলারের জন্য জাতীয় দলের ডাক স্বপ্নের মতো। আর সেই ডাক যদি আসে নিজের পূর্বপুরুষের দেশ থেকে, তাহলে আবেগটা আরও বেশি হওয়ারই কথা।

কিন্তু ঠিক তখনই সামনে এলেন তার বাবা আজ্জুজ আয়ারি। বাবা তাকে এমন একটি কথা বলেছিলেন, যা হয়তো ইয়াসিনের পুরো জীবন বদলে দিয়েছে। তিনি ছেলেকে মনে করিয়ে দেন, তাদের পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে সুইডেন। সুযোগ দিয়েছে সুইডেন। নতুন জীবন গড়ার পথ খুলে দিয়েছে সুইডেন। তাদের পরিবারের আজকের অবস্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান সেই দেশেরই।

সিদ্ধান্তটা সহজ ছিল না। একদিকে ছিল শিকড়ের টান, অন্যদিকে ছিল কৃতজ্ঞতার দায়। শেষ পর্যন্ত ইয়াসিন বেছে নেন সুইডেনকে। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিদানও যেন তিনি দিলেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল। পরে আরও একটি গোল যোগ করে পূর্ণ করেন জোড়া গোলের কীর্তি। সুইডেনের বড় জয়ের অন্যতম নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি। কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটি দেখা গেছে গোলের পর।

অনেকেই হয়তো উল্লাসে ভেসে যেতেন। কেউ হয়তো দৌড়ে কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে যেতেন। কেউ গ্যালারির সামনে বুক চাপড়ে উদযাপন করতেন। কিন্তু ইয়াসিন আয়ারি তা করেননি। তিনি দুই হাত তুলে নীরব এক বার্তা দিয়েছেন। যেন বলছেন, ‘আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, কিন্তু আমি আমার শিকড়ও ভুলিনি।’

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link