জ্যোতি কি শুধুই ক্রাইসিস ম্যানেজার, নাকি বড় টুর্নামেন্টের বাধা?

জ্যোতি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিয়েছেন, এটা সত্যি। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে যে কাজটা সবচেয়ে জরুরি, বড় ম্যাচে দলকে জিতিয়ে আনা, চাপের মুহূর্তে নিজে দাঁড়িয়ে পথ দেখানো, সেই জায়গাতেই বারবার আটকে গেছেন তিনি। লড়াই শেখানোর কাজটা তিনি করেছেন। এখন সময় এসেছে সেই লড়াইকে জয়ে রূপান্তর করার মতো কাউকে খোঁজার।

নিগার সুলতানা জ্যোতিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা কঠিন একটা কাজ। ২০২১ সালে দুই ফরম্যাটেই অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর তিনিই বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো নিয়ে গেছেন ওয়ানডে বিশ্বকাপে, নিয়ে গেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও। যে দলটা একসময় শুধু সহযোগী অংশগ্রহণকারী হিসেবে টুর্নামেন্টে যেত, জ্যোতির নেতৃত্বে সেই দলই এখন ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়াই করার সাহস দেখায়। এই বদলটার পেছনে তার অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

কিন্তু কথা হলো, লড়াই করা আর জিতে আসা এক জিনিস নয়। জ্যোতির নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহুবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে, কিন্তু বড় টুর্নামেন্টে বড় সাফল্য প্রায় আসেনি বললেই চলে। এই বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেরা ফল সপ্তম স্থান। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে রানার্সআপ হয়েই থেমে গেছে দল, শিরোপা অধরাই থেকে গেছে। আর এখন এশিয়া কাপেও সেই পুরনো গল্প, সেমিফাইনালে গিয়ে থেমে যাওয়া ভারতের কাছে।

সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে তার নিজের ব্যাটিংয়ের প্যাটার্ন। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালেই যেমন দেখা গেল, ১৭ বলে ১৯ রান করে দলকে কিছুটা আশা দেখাচ্ছিলেন জ্যোতি। ঠিক তখনই বড় শট খেলতে গিয়ে লিডিং এজে ক্যাচ তুলে দিলেন। দল যখন তাকে ক্রিজে থেকে ইনিংসটা টেনে নেওয়ার আশায় ছিল, ঠিক তখনই ঝুঁকি নিয়ে ফিরে গেলেন তিনি।

এই একই ছবি নতুন নয়, চাপের মুহূর্তে বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে তার ব্যাটিংয়ে। ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপ ফাইনালে তিনি নিজেও রান করেছিলেন, দল জিতেছিল। কিন্তু সেই একটা সাফল্যের পর গত আট বছরে বড় মঞ্চে নিজে দায়িত্ব নিয়ে দলকে জিতিয়ে আনার মতো ইনিংস খুব বেশি খেলতে পারেননি।

ভারতের বিপক্ষে পরিসংখ্যানও একই কথা বলে। ২০২৪ সালে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ, জ্যোতি নিজেই ছিলেন অধিনায়ক। এরপর এশিয়া কাপেও একই ফল।

জ্যোতি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিয়েছেন, এটা সত্যি। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে যে কাজটা সবচেয়ে জরুরি, বড় ম্যাচে দলকে জিতিয়ে আনা, চাপের মুহূর্তে নিজে দাঁড়িয়ে পথ দেখানো, সেই জায়গাতেই বারবার আটকে গেছেন তিনি। লড়াই শেখানোর কাজটা তিনি করেছেন। এখন সময় এসেছে সেই লড়াইকে জয়ে রূপান্তর করার মতো কাউকে খোঁজার।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link