খানিক আগেই বলের গতি একটু কমিয়ে দারুণ টার্ন আদায় করে নিয়েছিলেন জো রুট, সেটা ভেবেই বোধহয় শট খেলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি হেরে গিয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজার দুর্দান্ত গেম রিডিং সামর্থ্যের কাছে; ঘন্টায় একশো কিলোমিটারের বেশি গতিতে ছোড়া বলটা ব্যাট নামিয়ে আনার আগেই আঘাত হানে প্যাডে – সরাসরি এলবিডব্লু।
এই নিয়ে ওয়ানডেতে চার বার রুটকে আউট করলেন জাদেজা; দশ ইনিংসে সবমিলিয়ে ১৩৩বার রুটের বিপক্ষে বল করেছেন তিনি, এসময় রান দিয়েছেন ১১৫। অর্থাৎ গড় ৩০ এর নিচে – ইতিহাসের অন্যতম সেরা এ ব্যাটারের বিপক্ষে এর চেয়ে ভাল রেকর্ড আছে কেবল ট্রেন্ট বোল্টের।
প্রথম ওয়ানডেতে অবশ্য ভারতীয় তারকা শুধু রুট নয়, বরং পুরো ইংলিশ ব্যাটিং লাইন আপকে নাচিয়ে ছেড়েছেন। উড়ন্ত সূচনা পাওয়া সফরকারীদের মাঝের ওভারগুলোতে রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাইয়েছেন তিনি। নিজের প্রথম স্পেলে ছয় ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ২১ রান খরচ করেছেন এই বাঁ-হাতি, তাতেই মূলত চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড। ছন্দে থাকা ব্যাটাররাও তাঁর বিরুদ্ধে খোলসবন্দী হয়ে যায়।

যদিও দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আরো বিধ্বংসী হয়ে উঠেন তিনি, আক্রমণে এসেই তুলে নেন সেট ব্যাটার জ্যাকব বেথেলের উইকেট – ম্যাচ পরিস্থিতি বিবেচনায় উইকেটটার গুরুত্ব ছিল আকাশসম। এরই মধ্য দিয়ে জেমস অ্যান্ডারসনকে ছাড়িয়ে ইংল্যান্ড বনাম ভারত ওয়ানডে সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় শীর্ষে উঠে যান জাদেজা।
সবমিলিয়ে এদিন নয় ওভারে ২৬ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট ঝুলিতে পুরেছেন তিনি। ইকোনমি তিনের নিচে, পুরোটা সময় কতটা আঁটসাঁট বোলিং করে গিয়েছেন সেটা তাই বলার অপেক্ষা রাখে না। সত্যি বলতে, পেস-নির্ভর দেশগুলো উপমহাদেশে আসলে এভাবেই স্বাগতম জানাতে হয়।
অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার ক্যারিয়ারের শেষভাগে দাঁড়িয়ে আছেন এখন; তবু তাঁর তেজ এখনো ম্লান হয়নি; ভয়াল স্পিনে মায়ার জাল তৈরিতে ভুল হয় না একটুও, এখনো ভীড়ের মধ্যে তিনি সবার সেরা – অন্তত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে তাঁর পারফরম্যান্স সে কথাই বলে।











