ব্যাটিংয়ের ছন্দে ছিলেন, রানও আসছিল, তারপর হুট করেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে ধরা দিলেন লোকেশ রাহুল। শটটা আরও ভালো হতে পারত? ইনিংসটা কি আরও ভাল হতে পারত? দল আসলে তাঁকে ভূমিকায় চাচ্ছে, সেটা কি দিতে পারছেন লোকেশ রাহুল?
প্রশ্নগুলো ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ভারতের মিডল অর্ডারে স্থিরতা দরকার, আর পাঁচ নম্বর জায়গাটা যেন এখনও এক অমীমাংসিত সমীকরণ। ডাগ আউটে বসে বেঞ্চ গরম করছেন ঋষাভ পান্তের মত নামজাদা ব্যাটার – সেটাও ভুলে গেলে চলবে না।
এই জায়গার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দুইজন— লোকেশ রাহুল ও ঋষভ পান্ত। অভিজ্ঞতার পাল্লায় রাহুল এগিয়ে, কিন্তু এক্স-ফ্যাক্টরের দৌড়ে পান্ত যে যেকোনো দিন ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন, সেটাও অস্বীকার করার উপায় নেই। এমন মারকুটে একজন ব্যাটারকে সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রাখা কতটা যৌক্তিক? বিশেষ করে যখন ভারতের মিডল অর্ডারে কুইক ফায়ার জাতীয় ইনিংসের প্রয়োজন?

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে রাহুল খেললেন ২৯ বলে ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংস। ১৩৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালালেও আউট হলেন এমন এক সময়ে, যখন ভারত আরও বড় সংগ্রহের দিকে দৌড়াচ্ছিল। তখন ইনিংসের ৪৭তম ওভার, ভারতের স্কোর ৩৩৩— এমন পরিস্থিতিতে আরও আগ্রাসী হওয়া যেত না?
দলের চাহিদাটা কি আরও বড় কিছু ছিল না? লোকেশ রাহুল যদি ইনিংসের একদম শেষ পর্যন্ত থাকতেন সেটা দলের জন্য ইতিবাচক হত অবশ্যই। এটুকুতে টিম ম্যানেজমেন্টের মন ভরে কি না – সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রোহিত-গম্ভীররা রাহুলকে সুযোগ দিয়ে গেছেন, একাদশে থিতু হওয়ার সব রাস্তা খুলে দিয়েছেন। প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ হলেও তৃতীয় ম্যাচে ছন্দ খুঁজে পেলেন রাহুল। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এটাই কি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত? পাঁচ নম্বরে ভারতের স্থিতিশীলতা কি এখনো নড়বড়ে? নাকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচেই পান্ত ফিরবেন ঝড় তুলতে?

ভারত যে বিশ্বজয়ের স্বপ্নে বিভোর, সেখানে একাদশে সামান্য নড়বড়ে জায়গাও বিলাসিতা। পাঁচ নম্বরে আসল উত্তর কে— রাহুল নাকি পান্ত? উত্তর হয়তো দেবে ট্রফির মঞ্চই!










