জিতলেই টেবিল টপার, রিয়াল মাদ্রিদ আর অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের পয়েন্ট খোয়ানোর পর বার্সেলোনার সামনে সমীকরণ এতটাই সহজ হয়ে গিয়েছিল। আর সেই সহজ সমীকরণ সমাধান করে সবার উপরে উঠে আসলো তাঁরা, পিছনে ফেললো রায়ো ভায়োকানোকে হারিয়ে মাদ্রিদ শহরের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে।
ঘরের মাঠে কাজটা অবশ্য একেবারে সহজ ছিল না, রায়ো ভায়োকানো হাল ছাড়তে চায়নি, টানা নয় ম্যাচ ধরে অপরাজিত থাকা দলটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিল বার্সার দিকে। তবে পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন রবার্ট লেওয়ানডস্কি, কুড়িয়ে পাওয়া পেনাল্টির পূর্ণ ফায়দা আদায় করেছেন। এই নিয়ে চলতি লা লিগায় বিশ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি; লা লিগায় নিজের ক্যারিয়ার সেরা ২৩ গোলের রেকর্ড ভাঙার পথে ভালভাবেই এগিয়ে আছেন তিনি।
যদিও এতে বিতর্কের আগুন আরো বেড়েছে, নিজেদের শেষ ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ এবং অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ দুই দলই পেনাল্টি হজম করেছিল। সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চলছে এখনো, এরই মধ্যে বার্সেলোনা নিজেদের পক্ষে পেনাল্টি পেলো।

এদিন পেনাল্টি না পেলে অবশ্য ভিন্ন কিছু ঘটতে পারতো; প্রথমার্ধে রাফিনহা, লামিন ইয়ামাল একাধিক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। এরপর তো বলতে গেলে রায়োই খেলেছে, বার্সা গোলরক্ষক সেজনি চীনের মহাপ্রাচীর হয়ে না দাঁড়ালে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া হতো না কাতালানদের।
কিন্তু এক ম্যাচ দিয়ে কোনভাবেই বার্সেলোনার পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্সকে ছোট করা যাবে না, হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা যেভাবে শিষ্যে উঠে এসেছে সেটাকে আসলে ছোট করে দেখারই সুযোগ নেই। লেওয়ানডস্কি প্রতি ম্যাচে গড়ে ০.৮৭ গোল করেছেন চলতি আসরে; রাফিনহা কেবল গোল করেই থামছেন না, গোল বানিয়েও দিচ্ছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই মৌসুমে ৭০টি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি, যা কি না ইউরোপে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে ইয়ামাল, পেদ্রী তো রীতিমতো ম্যাজিশিয়ান বনে গিয়েছেন; বল পায়ে গেলে তাঁরা হয়ে উঠছেন একেকজন জাদুকর। কিউলরা তাই শিরোপা স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠেছে; যদিও এখন মাত্র লিগের মাঝামাঝি, বাকি আছে অনেকটা পথ – শেষপর্যন্ত সতর্ক থেকে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে পারলেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিবে।










