নামের ভার নেই স্যান্টনারের, তাইতো আলোচনাও নেই

ততটাও প্রসিদ্ধ তিনি নন। রোহিত শর্মা, স্টিভেন স্মিথদের মত বড় নামের ভীড়ে যেন হারিয়ে যায় মিশেল স্যান্টনার নামটা।

ততটাও প্রসিদ্ধ তিনি নন। রোহিত শর্মা, স্টিভেন স্মিথদের মত বড় নামের ভীড়ে যেন হারিয়ে যায় মিশেল স্যান্টনার নামটা। স্রেফ কিউই ভদ্রলোক বলেই কি-না তার অধিনায়কত্ব কিংবা তার বোলিং কোনটাই আলোড়ন সৃষ্টি করে না। তবে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ড ফাইনালে উঠেছে তার নেতৃত্ব গুণে। তার থেকেও স্যান্টনার অবদান রেখেছেন বল হাতে।

একটা প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা প্রয়োজন। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিটা হয়েছে হাইব্রিড মডেলে। ভারত তাদের সবগুলো ম্যাচ খেলেছে দুবাইতে। আর বাকিদলগুলো অধিকাংশ ম্যাচই খেলেছে পাকিস্তানের লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি ও করাচির উইকেটে।

স্যান্টনার ও তার দল সেমিফাইনাল সহ তিনটি ম্যাচ খেলেছে পাকিস্তানের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে। সেই উইকেটে দাড়িয়েও স্যান্টনার বাকিদের যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন কি করে ব্যাটিং পিচে স্পিন বোলিংটা করতে হয়। স্রেফ সাকিব আল হাসানই সম্ভবত এমন চতুরতা দেখাতে পারতেন। তিনি যেহেতু নেই তাহলে স্যান্টনারকে এই মুহূর্তে বলা যেতে পারে বিশ্বের সেরা বা-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার।

করাচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে তিনখানা উইকেট বাগিয়েছেন বা-হাতি এই অর্থোডক্স স্পিনার। এছাড়া এবারের আসরে আরও চারটি উইকেট নিজের করে নিয়েছেন স্যান্টনার। উইকেট শূন্য থেকেছেন স্রেফ বাংলাদেশের বিপক্ষে।

তবে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে তার ইকোনমি রেট। ব্যাটারদের স্বর্গে দাঁড়িয়ে তাদের রান করার প্রবণতায় লাগাম টেনে ধরা চাট্টিখানি কথা নয়। সে কাজটা ধারাবাহিকভাবেই করে গেছেন মিশেল স্যান্টনার।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তার ইকোনমি রেট মাত্র ৪.৮৫। তাছাড়া দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলারও তিনি। তবুও কোন এক অজানা কারণে তাকে নিয়ে আলোচনা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। নিউজিল্যান্ডের দলটা যথেষ্ট কম্প্যাক্ট। ভারসাম্যপূর্ণ এই দলটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন দক্ষ নাবিকের।

নিজের প্রথম বড় অ্যাসাইনমেন্টে দলকে ফাইনালে তুলেছেন, এটা নিশ্চয়ই দক্ষতার পরিচয়। পাকিস্তান, বাংলাদেশকে পরাজিত করে, সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার মত চ্যাম্পিয়নশীপ প্রত্যাশি দলকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তার দল। স্রেফ একটা ম্যাচই হেরেছে স্যান্টনারের দল। সেটি আরেক ফাইনালিস্ট ভারতের বিপক্ষে।

ফাইনালের মঞ্চে স্যান্টনার কিংবা তার দল কি করবে, সেটা সেদিনের জন্যেই তোলা থাক। তবে এখন পর্যন্ত যা কিছু করেছেন স্যান্টনার, তার সবকিছুর জন্যেই তার প্রশংসা প্রাপ্য। সেটুকু দিতে নিশ্চয়ই কারও নেই অনাগ্রহ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link