বর্তমান সময়ে সাদা বলের ক্রিকেটের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে গিয়ে অনেকটা গতিহীন অবস্থায় টেস্ট ক্রিকেট। তবে এবার যেন লাল বলের গতি ফিরিয়ে আনলো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫ ফাইনালের জন্য এবার রেকর্ড পরিমাণ অর্থমূল্যের পুরস্কার ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আগামী ১১ জুন মাঠে গড়াবে দক্ষিণ আফ্রিকা আর অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। আর এর আগেই বড় চমক, ফাইনালে জয়ী দল পাবে ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার! বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ৪৩ কোটি টাকারও বেশি!
আর রানার্স-আপ দল পাবে তাদের ২.১ মিলিয়ন ডলার, বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ২৬ কোটি টাকারও বেশি! গতবারের তুলনায় যা চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বেড়েছে ১২৫ শতাংশ আর রানার্স-আপদের জন্য ১৬২.৫ শতাংশ।

আইসিসি জানায়, এই বাড়তি প্রাইজমানির মাধ্যমে তারা টেস্ট ক্রিকেটকে আরও গুরুত্ব দিতে চায়। গত কয়েক বছরে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি যতটা জনপ্রিয়তা পেয়েছে, টেস্ট ক্রিকেট যেন তার ছায়ায় চাপা না পড়ে যায় — সেই চিন্তা থেকেই এমন পদক্ষেপ।
২০২১ সালে প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ড যখন ভারতকে হারায়, তখন জয়ী দল পেয়েছিল ১.৬ মিলিয়ন ডলার। ২০২৩-এ সেটা বেড়ে দাঁড়ায় ১.৬৮ মিলিয়ন। এবার তা এক লাফে ৩.৬ মিলিয়নে পৌঁছেছে। যা টেস্ট ক্রিকেটে আগ্রহ বাড়াবে বহুগুণ।
তবে চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্সআপ দলের জন্যই শুধু নয়, অংশগ্রহণকারী সব দলই পাবে অর্থ পুরস্কার। এবারের প্রাইজমানি বণ্টন মূলত দলের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি দলের অবস্থান অনুসারে যা প্রদান করা হবে।

টি-টোয়েন্টি যুগের রমরমা সময়ে সাদা বলের ক্রিকেট অনেকটা ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে। আভিজাত্যের পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনতে তাই তো আইসিসির এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।











