এমআরএফ স্টিকার লাগানো ব্যাট, চার নম্বর ব্যাটিং পজিশন, আর তিনটি নাম— শচীন, কোহলি এবং শুভমান গিল। যেন পৌরাণিক কোনো গল্পের নায়ক এরা, যারা ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে শাসন করেছেন নিজেদের সময়।
১৯৯২ থেকে ২০২৫, মাঝখানে পার হয়েছে ৩৩ বছর। তবে একটা অমোঘ বাণী রেখে গেছে সময়গুলো। আর সেটা ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের চার নম্বর পজিশন, যে জায়গাটাতে জন্ম হয় শুধুই কিংবদন্তিদের।
শচীন টেন্ডুলকার, যার একেকটা স্ট্রেইট ড্রাইভে থমকে যেতে বাধ্য হতো সময়। তিনিই সামলে রেখেছেন, আদরে আগলে রেখেছিলেন ভারতের ব্যাটিং অর্ডারের ওই চার নম্বর পজিশনটা। ফিফটি, সেঞ্চুরি, প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি—কত শত কিছুরই তো সাক্ষী ছিল ওই একটা জায়গা।

শেষটাতে যখন সব ছেড়ে দিলেন, একটা বিশাল শূন্যতা তৈরি হলো ওখানে। শচীনের মতো কি কেউ পারবে? ওটা যে ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড, ওখানে যে কাউকে তো আর বসানো যায় না।
পরের গল্পটা সবারই জানা। সাদা পোশাকে ১৮ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়ে যে ছেলেটা ওই চার নম্বরে নামলো, সব ধোঁয়াশা দূর করে জোহানেসবার্রগে তখন একটা বিশ্বাস জন্ম নিলো। শচীন থেকে যে হাতবদলটা হলো তার ডিফাইনিং মোমেন্ট ছিল ২০১৪ সালের অস্ট্রেলিয়া ট্যুর। অজিদের বিশ্বসেরা বোলিং লাইনআপকে চুপ করিয়ে আট ইনিংসে করলেন ৬৯২ রান। ব্যাটিং গড়টা ছিল ৮৬.৫০। চার শতক হাঁকিয়ে জানান দিয়েছিলেন — ‘আমি তো আছি, তোমাদের আর চিন্তা কিসে!’
বাকি সময়টা সবাই শুধু দেখে গেল, একেকটা কাভার ড্রাইভে চার নম্বর পজিশনটা আরও ক্লাসিক্যাল হলো। প্রায় একটা যুগ শাসন করে গেলেন বিরাট কোহলি। দুনিয়ার সব বাঘা বাঘা বোলারদের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে ওই জায়গাটাকে আরও শানিত করে তুললেন তিনি।

বিরাট যখন ঠিক করলেন আর নামবেন না প্রিয় জায়গাটায়, ভারতের ক্রিকেটে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। ওই জায়গায় যে সবাইকে মানায় না, ওখানে যে বিরাট ছাড়া বড্ড আনকোরা লাগবে। কী হবে, কে হবেন রাজার আসনের পরবর্তী অধিপতি!
একজন প্রিন্স ছিলেন, যিনি বিরাটের ছায়াতেই বড় হওয়া এক নাম। উত্তরসূরী হিসেবে পরলেন রাজার মুকুট। তবে সাজসজ্জা রাজার মতো হলেই তো আর রাজা হওয়া যায় না। প্রমাণ করা যে তখনও বাকি।
অধিনায়কত্বের নতুন যাত্রা কাঁধে তুলে শুরু করলেন প্রমাণের লড়াই, ওই চার নম্বর পজিশনটা বাঁচিয়ে রাখার লড়াই। হেডিংলিতে চার নম্বরে নেমেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন গিল। কিছুটা নির্ভার হতে বললেন সবাইকে, বিশ্বাস রাখতে বললেন নতুন রাজার উপর।

এজবাস্টনে আরও এক ধাপ উপরে। ফিফটি পার হয়ে সেঞ্চুরি, এরপর ডাবল সেঞ্চুরি—শেষটাতে ২৬৯-এ থামলেন। সব কিছু শান্ত করে দিলেন শুভমান গিল। সমালোচকদের মুখের উপর বলে দিলেন— জায়গাটা এখন আমার, আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বইছে পূর্বসূরিদের রক্ত।
৩৩ বছরের রাজত্ব—শচীন থেকে গিল, একটুও খাদ পড়েনি ওই জায়গাটাতে। বরং আরও বেশি পরিণত, আরও বেশি ঝাঁঝালো। আর ওই যে প্রিয় ব্যাটটা, এমআরএফ লাগানো স্টিকার—সেটা যেন তিন প্রজন্মের লিগ্যাসি!











