আকাশ দীপের লুকিয়ে রাখা যন্ত্রণা!

শুভমান গিল যখন ব্রাইডন কার্সের ক্যাচ তালুবন্দি করলেন আকাশ দীপ তখন আকাশের দিকে দুহাত ছড়িয়ে দিলেন। এজবাস্টনে ১০ উইকেট নিয়ে ততক্ষণে যে তিনি নায়ক বনে গেছেন। তবে প্রাপ্তির আড়ালেও যে একটা ব্যথা লুকিয়ে থাকে যা কেউ দেখে না।

শুভমান গিল যখন ব্রাইডন কার্সের ক্যাচ তালুবন্দি করলেন আকাশ দীপ তখন আকাশের দিকে দুহাত ছড়িয়ে দিলেন। এজবাস্টনে ১০ উইকেট নিয়ে ততক্ষণে যে তিনি নায়ক বনে গেছেন। তবে প্রাপ্তির আড়ালেও যে একটা ব্যথা লুকিয়ে থাকে যা কেউ দেখে না।

মনের মধ্যে যন্ত্রণারা সন্তপর্ণে বেড়ে উঠে ডালপালার মতো, কাউকে তা বোঝানো যায় না। তেমনই এক লুকানো ব্যথা লুকিয়ে রেখে দলকে জয় এনে দিলেন আকাশ।

বার্মিংহামের ফ্ল্যাট উইকেটে একের পর এক ইনসুইংয়ে যখন ইংল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে দিচ্ছেন, টিভির সামনে একজন দেখে হয়তো যন্ত্রণা ভুলে হাসলেন। একেকটি উইকেট শিকারের পর বড় দিদির মুখটা আকাশের সামনে ভেসে উঠেছে।

ভাই ভারতের জার্সি গায়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সুদূর ইংল্যান্ডে, অন্য প্রান্তে দিদি ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছেন দু’মাস ধরে। নিয়তির নির্মম বাস্তবতা মেনে নিয়ে আকাশ তাই তো নিজের বোনের জন্য বল হাতে তুললেন, দিদির মুখে হাসি ফোটাতে উইকেট নিলেন।

ম্যাচ শেষে চেতেশ্বর পূজারা যখন আকাশকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘খেলা শেষে স্মারক হিসেবে স্টাম্প আর বল নিয়েছো। এটা নিশ্চয়ই বাড়ি ফিরে সকলকে দেখাবে?’ আকাশ তখন বলে উঠলেন, ‘একটা কথা আমি কাউকে বলিনি। আমার বড় দিদি দু’মাস ধরে ক্যান্সারে ভুগছে, খুব কষ্ট হচ্ছে। আমি ওর মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলাম। প্রতিটি বলের সময় আমার চোখের সামনে ওর মুখটাই ভেসে উঠেছিল। আমি ওর জন্য উইকেট পেতে চেয়েছিলাম। এই জয়টা ওর জন্য।’

আকাশের চোখের জল তখন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইলো, তবে মুখে একটা হাসি নিয়ে আবেগটা লুকিয়ে রাখলেন। ওটা যে একান্তই তার।

জগতে ভালোবাসার চেয়ে বড় আর কিছু নেই, আর কিছু হতে পারে না। দিদির প্রতি আকাশের এই ভালোবাসাটা একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো। যার সাক্ষী হলো বার্মিংহামের উইকেট, যার সাক্ষী হলো লুকানো কিছু চোখের জল।

Share via
Copy link