থ্রোয়ার বল ছুড়ছেন, তিনি একের পর এক ড্রাইভ করে চলেছেন। চোখের আড়াল হলেও নিজেকে মনের আড়াল হতে দিচ্ছেন না। পুরো দল যখন এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, নাজমুল হোসেন শান্তর লড়াই তখন সবার চেয়ে আলাদা।
এখানে তিনি নি:সঙ্গ এক নাবিক। নিজের এলোমেলো ক্যারিয়ারের ভাঙা তরী বইছেন তিনি নিজেই। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের আনাগোনা এখন খুবই কম, সেখানেই নীরবে নিভৃতে চলছে নাজমুল হোসেন শান্তর ফেরার লড়াই।
বোর্ডের সাম্প্রতিক আচরণে শান্তকে এই মুহূর্তে চাইলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনাদরের সন্তান বলাই যায়। ওয়ানডের অধিনায়কত্ব থেকে তাঁকে হঠাৎ করেই সরিয়ে দেওয়ার পর তিনি ক্ষোভ থেকে সরে দাড়ান টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকেও।

সাবেক অধিনায়কের ওয়ানডের পারফরম্যান্সেও বিরাট ভাটা পড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটার ছিলেন শান্ত, সেখানে ২০২৫-এ এসে তিনি একেবারেই ম্লান।
গেল বছর পাঁচ ওয়ানডেতে শান্তর ব্যাটিং গড় যেখানে ছিল ৭১.৫০, সেখানে ২০২৫ সালে সেটা ২২.৮০। রান তোলার গতি কমছে ২০২৩ সালের পর থেকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই গতি আধুনিক ক্রিকেটের সাথে বেমানান।
২০২৩ সালে ২৬ টি ওয়ানডে ইনিংসে শান্তর স্ট্রাইক রেট ছিল ৮৫.৮১। সেটাকেই শান্তর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আলোচিত বছর বলা যায়। ওয়ানডে বিশ্বকাপের বছরে শান্ত দু’টো সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি করেন।

৯৯২ রান করেন ৪১.৩৩ গড়ে। সেখান থেকে ২০২৪ সালে স্ট্রাইক রেট ৭৯.৪৪-এ নেমেছে। সেখান থেকে ২০২৫-এ কমে হয়েছে ৭১.২৫। গেল শ্রীলঙ্কা সফরের ওয়ানডে সিরিজে কার্যত ব্যর্থই হন শান্ত।
সেই ব্যর্থতার বেড়াজাল ছিন্ন করতে এবার মরিয়া শান্ত। এশিয়া কাপ শেষেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ খেলবে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি। শান্তর মনোযোগ এখন সেদিকেই।
শান্ত টপ অর্ডারের ব্যাটার, সেখানে এমন প্রাগৈতিহাসিক কালের স্ট্রাইক রেট দৃষ্টিকটু। সেই সংকট নিরসনেই মিরপুরের অ্যাকাডেমি মাঠে নেট বোলার আর থ্রোয়ারদের সাথে নিয়ে নিজেকে শানিয়ে নিচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

শুধু পাওয়ার হিটিং নিয়ে কাজ করছেন তা নয়, রান বের করার জন্য যাতে নিয়মিত গ্রাউন্ড শট খেলা যায় – সেদিকেও পূর্ণ মনোযোগ আছে শান্তর। শুধু বাউন্ডারি নয়, সিঙ্গেল-ডাবল নিয়েও এগোতে চান শান্ত। শান্তর এই প্রচেষ্টাগুলো ব্যাটে বলে হলেই আখেরে লাভবান বাংলাদেশ ক্রিকেট।










