পাঁচ ছক্কায় মোমেন্টাম নবীর হাতের মুঠোয়

তার এই ইনিংসটি হয়ত শেষ অবধি বাংলাদেশের জন্যেও দুঃস্বপ্নের কারণে পরিণত হতে পারে। সেটুকুই বরং নবীর জন্যে সমস্ত সুখের বড় কারণ। 

শেষ ওভারে পাঁচ ছক্কা। মোহাম্মদ নবী তুলোধুনো করলেন দুনিথ ওয়েল্লালাগেকে। তার ক্যাচ ফেলে দেওয়া ঠিক কতটা ব্যয়বহুল ভুল তা যেন হাড়ে হাড়ে টের পেলেন ওয়েল্লালাগে। অভিজ্ঞতার পূর্ণ ব্যবহার করলেন আফগান তারকা ব্যাটার। আফগানিস্তানের পক্ষে দ্রুততম ফিফটির আরও একটি রেকর্ড গড়ে ফেললেন নবী।

আফগানিস্তানের বাঁচা-মরার লড়াই। জিতলেই মিলবে সুপার ফোরের টিকিট। নতুবা বাংলাদেশ চলে যাবে পরের রাউন্ডে। এমন ম্যাচে শুরু থেকেই ভীষণ চাপে ছিল আফগানিস্তান। নুয়ান থুসারার সৃষ্ট চাপ প্রশমিত করতে মোহাম্মদ নবী প্রমোশন পাবেন ব্যাটিং অর্ডারে- এমন ধারণা ছিল বটে। কিন্তু না, আফগানিস্তান তাকে জমিয়ে রাখল শেষের জন্য।

তার প্রতি যে আস্থা ছিল আফগান টিম ম্যানেজমেন্টের- সে প্রত্যাশার পুরোটাই ডেলিভার করলেন বর্ষীয়ান এই ক্রিকেটার। অথচ তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরতে পারতেন বহু আগে। ছয় বলে ব্যক্তিগত পাঁচ রানের সময়ে ক্যাচ তুলে দেন মোহাম্মদ নবী। ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে সেই ক্যাচ ফেলে দেন দুনিথ ওয়েল্লালাগে।

ততক্ষণে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আফগানিস্তানের। ১৬ ওভার শেষে ১০৫ রান আফগানদের স্কোরবোর্ডে, উইকেট নেই ছয়টি। সে পরিস্থিতি থেকে কাউন্টার অ্যাক্রমণ ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ খোলা ছিল না রশিদ খানের দলের। সেই প্রতি আক্রমণের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মোহাম্মদ নবী। ২০ বলে পঞ্চাশ রানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যান তিনি। যেখানে ১৪০ রানের আশেপাশে থামার কথা সেখানে আফগানদের স্কোর গিয়ে শেষ অবধি দাঁড়িয়েছে ১৬৯ রানে।

শেষ ওভারে তো রীতিমত ঝড় বয়ে গেছে আবু ধাবির বাইশ গজে। ওয়েল্লালাগে বল ছোড়েন আর সেই বল বাউন্ডারির ওপারে আছড়ে পড়ে। টানা পাঁচটা ছক্কা হাঁকালেন মোহাম্মদ নবী। তার এমন তাণ্ডবের দিশেহারা লঙ্কান স্পিনার করে বসলেন নো বল। ছয় বলে ছয় ছক্কার দ্বারপ্রান্তে তখন নবী দাঁড়িয়ে।

কিন্তু শেষ অবধি আর তিনি ছক্কা হাঁকাতে পারেননি। তাতে তার মৃদু আফসোস থাকলেও থাকতে পারে। তবে তার ৬০ রানের ইনিংসটি আফগানদের মোমেন্টাম দিয়েছে বটে। সেই মোমেন্টাম জয়ের জন্যে যথেষ্ট প্রমাণিত হতে পারে দিনশেষে। তার এই ইনিংসটি হয়ত শেষ অবধি বাংলাদেশের জন্যেও দুঃস্বপ্নের কারণে পরিণত হতে পারে। সেটুকুই বরং নবীর জন্যে সমস্ত সুখের বড় কারণ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link