অ্যান্ডি পাইক্রফট ক্ষমা চেয়েছেন। আর সেই ক্ষমার ছোঁয়ায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) যেন একটু বেশিই ছেলেমানুষি করে ফেলেছে। অবস্থান ব্যাখ্যা করতে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলেন পাইক্রফট, কথা বলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলী আঘা ও কোচ মাইক হেসনের সাথে। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করায় এখন আইসিসির তোপ সামলাতে হচ্ছে পিসিবিকে।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখ যে নাটক ঘটেছে, সেটাই আবার আঁকড়ে ধরেছে পাকিস্তান। খেলোয়াড় ও ম্যাচ অফিসিয়ালদের জন্য নির্ধারিত সংবেদনশীল এলাকার বিধিনিষেধ ভঙ্গ করেছেন তাঁরা। প্লেয়ার্স অ্যান্ড ম্যাচ অফিশিয়ালস এরিয়াতে (পিএমওএ) নিয়মভঙ্গের দায়ে তাঁদের কড়া মেইল পাঠিয়েছে আইসিসি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সেই ইমেইল লিখেছেন স্বয়ং আইসিসির সিইও সংযোগ গুপ্ত। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পিএমওএক-তে ভিডিও ধারণ করা কতটা বড় নীতি লঙ্ঘন।

ঘটনাটা শুরু হয় আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের সঙ্গে পাকিস্তানের বোর্ড কর্তাদের বৈঠক নিয়ে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জোরাজুরি করা হয়—ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট, অধিনায়ক সালমান আঘা ও কোচ মাইক হেসনের সঙ্গে হওয়া আলাপচারিতা পুরোপুরি রেকর্ড করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানে এমন রেকর্ডিং একেবারেই নিষিদ্ধ। যখন আপত্তি জানানো হলো, তখনই পাকিস্তান হুমকি দিল—আবারও ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়াবে তারা।
অবশেষে ম্যাচ বাঁচাতে, আয়োজন বিঘ্নিত না করতে অন্য স্টেকহোল্ডাররা বাধ্য হয় পাকিস্তানের শর্ত মেনে নিতে। তবে এরপর যা ঘটেছে, তা আরও অস্বস্তিকর। পাইক্রফটকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়া, বৈঠকের ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া—এসব কিছুই ভালোভাবে নেয়নি আইসিসি।
জানা গেছে, ম্যাচের আগেই পাকিস্তানের মিডিয়া ম্যানেজার মোবাইল ফোন নিয়ে ঢুকতে চেয়েছিলেন পিএমওএ এলাকায়। তাঁকে যখন বাঁধা দেওয়া হলো, তখনও একই কৌশল—‘ব্ল্যাকমেইল’ হুমকি।

পাইক্রফট এবং আইসিসি যেখানে চেষ্টা করছিলেন ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেলতে, সেখানে পাকিস্তানের অবস্থান যেন ছিল উল্টো। অযথা নাটক মঞ্চস্থ করতে তৎপর ছিল তাঁরা। আর সেই নাটকই এখন কেবল মাঠের বাইরেই নয়, আইসিসির সদর দপ্তর পর্যন্ত গড়িয়ে গেছে। এবার পাকিস্তানের ওপর নতুন কি খড়গ নেমে আসে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।










