ভারত নামক দূর্গে টলেছে, পাকিস্তান কি পারবে ঘটাতে অঘটন?

অপ্রতিরোধ্য, অপরাজেয় তকমার ভারে দূর্গের দেয়াল যেন হয়ে গেছে খানিকটা দূর্বল। দূর ঈশান কোণে শঙ্কা দিচ্ছে উঁকি। পাকিস্তান কি পারবে করতে তাদের ধরাশায়ী? 

ভারত নামক দূর্গটা সময়ের সাথে কেমন যেন হয়ে গেছে নড়বড়ে। অপ্রতিরোধ্য, অপরাজেয় তকমার ভারে দূর্গের দেয়াল যেন হয়ে গেছে খানিকটা দূর্বল। দূর ঈশান কোণে শঙ্কা দিচ্ছে উঁকি। পাকিস্তান কি পারবে করতে তাদের ধরাশায়ী?

ফাইনালের ঠিক আগে-ভাগে শ্রীলঙ্কা তো প্রায় প্রমাণ করেই দিয়েছিল যে ভারত অজেয় নয়। ২০৩ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েও ভারত প্রায় পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। যদিও নানা নাটকীয়তায় সেই ম্যাচটি সুপার ওভারে জিতে নেয় সুরিয়াকুমার যাদবের দল।

তবে তাদের স্পিনারদের বিরুদ্ধে কিংবা পেস বোলিং আক্রমণে বিরুদ্ধে রান করা যে খুব একটা কঠিন কোন কাজ নয়- সেটা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন পাথুম নিসাঙ্কা ও কুশল পেরেরা। এই দুইজনে মিলে ৭০ বলে ১২৭ রানের জুটি গড়ে ভারতকে পরাজয়ের স্বাদ দেওয়ার মঞ্চ প্রায় প্রস্তুত করেই ফেলেছিলেন।

ভারতের বোলারদের বিপক্ষে স্রেফ আবেগ নয় একটু বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিংই হতে পারে দূর্গ জয়ের অর্ধেক কর্ম সাধন। তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে দুর্ধর্ষ ব্যাটিং ইউনিটের বিরুদ্ধে তো সকল বোলিং আক্রমণই অকেজো, ভারতের ব্যাটিং অর্ডারকে বশে আনার উপায় কি? সেই প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা।

বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারত প্রথম পাওয়ার প্লে-তে তুলেছিল ৭৭ রান। এরপর সেই একই ব্যাটিং ইউনিট শেষ অবধি গিয়ে থেমেছে ১৬৮ রানে। মাঝে ওভারগুলোতে বাংলাদেশি বোলারদের আঁটসাঁট লাইন-লেন্থ, ও উইকেট শিকারের পরিকল্পনার সফলতায় ভারতের দূর্গ সেদিনও টলেছিল খানিকটা।

তবে বাংলাদেশি ব্যাটারদের চিরায়ত ব্যর্থতায় ভারত নামক অজেয় দূর্গে ফাটল ধরানো যায়নি। এই দু’টো ম্যাচই অন্তত প্রমাণ করে, ভারতের দূর্গকে চাইলেই চ্যালেঞ্জ জানানো যায়। তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে সঠিক পরিকল্পনা ও মাঠে বাস্তবায়ন। তার থেকে বেশি দরকারি বিষয় হচ্ছে আবেগ নিয়ন্ত্রণ।

ওই একটি কাজে হয়ত পিছিয়ে পড়তে পারে পাকিস্তান। তবে তাদেরকে খুব খাটো করে দেখবার উপায় কিন্তু আদোতে নেই। আফগানিস্তানের বিদায়ের মধ্য দিয়ে সুপার ফোরের যাত্রা শুরু হয়। তখন আবারও স্বাভাবিকভাবে চারিদিকে প্রশ্ন চাওড় হয়, এবার তাহলে এশিয়া দ্বিতীয় সেরা দল কোনটি?

এমন প্রশ্নের উত্তরে অধিকাংশ ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ক্রিকেট বোদ্ধাদের মত গিয়েছিল শ্রীলঙ্কার পক্ষে। বাংলাদেশের বিপক্ষে লঙ্কানদের পরাজয়ের পর কেউ কেউ বাংলাদেশকেও বলেছিল দ্বিতীয় সেরা দল। তবে ঘুনাক্ষরে কেউ উচ্চারণ করেনি পাকিস্তানের নাম। অথচ সেই দলটাই শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশকে পরাস্ত করে ফাইনালের টিকিট কেটেছে।

সুতরাং এবারের এশিয়া কাপের আগের দুই দেখায় ভারতের কাছে পাত্তা পায়নি পাকিস্তান- এই আলোচনার ভিত্তিতে ভারতের সামনে সুযোগ নেই পাকিস্তানকে হালকাভাবে নেওয়ার। তাছাড়া ফাইনালের মঞ্চে ভারতের কাছ থেকে শিরোপা ছিনিয়ে নেওয়ার পূর্ব রেকর্ড কিন্তু পাকিস্তানের পক্ষেই কথা বলছে।

বহুজাতিক কোন টুর্নামেন্টের ফাইনালে ভারত-পাকিস্তান এখন পর্যন্ত মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবার। যার মধ্যে পাকিস্তান তিনটি শিরোপার দখল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে ভারতকে হারিয়ে। অতএব রবিবারের ফাইনালে ভারতকে একটু বাড়তি সতর্ক থাকতেই হচ্ছে। দূর্গের দোলন একটু হলেও নিশ্চয়ই মনে শঙ্কার মেঘ জড়ো করেছে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link