২০০৯ সালে বিশ্বকাপ টি-টোয়েন্টির দ্বিতীয় আসরে শিরোপা জয়ের পর কেটে গেছে ১৭টি বছর। পাকিস্তানের আর বিশ্বজয়ের স্বাদ নেওয়া হয়নি।। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর স্বপ্ন নিয়েই আরও একবার পাকিস্তান নামবে ২০২৬ এর আসরে। কিন্তু সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও একাদশ বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে শিরোপা জয়ে পাকিস্তানের বাধাগুলো।
- নড়বড়ে মিডল অর্ডার
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪ শেষ হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান খেলেছে মোট ৪৪টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এই ম্যাচগুলোর মধ্যে ২৪ বারই প্রথম চার ওভারের ভেতরে টপ থ্রি ব্যাটারদের হারিয়েছে তারা। যা শীর্ষ আট র্যাঙ্কিংধারী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
এর ফল দাঁড়িয়েছে মারাত্মক। ওপেনাররা সেট হওয়ার আগেই ইনিংসের হাল ধরতে হয়েছে মিডল অর্ডারকে। ওই ২৪ ম্যাচে পাকিস্তানের পাঁচ থেকে আট নম্বর ব্যাটাররা ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারের মধ্যেই ব্যাট করতে নেমেছেন। এই ২৪ ইনিংসে তাদের সংগ্রহ মাত্র ২৯১ রান, গড় ১৫.৩২ এবং স্ট্রাইক রেট ৯০.৩৭। আউট হয়েছেন ১৯ বার। এটিও শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন কার্যকারিতার দৃষ্টান্ত।

- ডেথ ওভারে ধারহীন বোলিং
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ম্যাচের ভাগ্য প্রায়ই নির্ধারিত হয় শেষ পাঁচ ওভারে। ডেথ ওভারে কার্যকর বোলিং ছাড়া এই ফরম্যাটে ধারাবাহিক সাফল্য কল্পনাই করা যায় না। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে মোটে ৩৭টি ম্যাচে ডেথ ওভারে বল করেছে পাকিস্তানি বোলারেরা।
৩৭ ম্যাচে মোট ১৫১.২ ওভার বল করে মাত্র ৮৮টি উইকেট শিকার করতে সক্ষম হয়েছে তারা। যেখানে ওভার প্রতি খরচ করেছেন প্রায় ৯ রান। চাপের মুহূর্তে রান আটকানো কিংবা শেষদিকে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার ধারাবাহিকতা স্পষ্টভাবে অনুপস্থিত।

- স্বয়ং অধিনায়কেরই বাজে ফর্ম
যেই সালমান আলী আঘার কাঁধে নেতৃত্বের ভার, তিনিই যেন ব্যাট হাতে নিজের ছন্দটা খুঁজে পাচ্ছেন না। অধিনায়কত্বের গুরুদায়িত্বে থাকা ৩৬ ইনিংসে মাত্র ২৪.৫৩ গড়ে ৬৮৭ রান করেন তিনি। স্ট্রাইকরেটটাও মাত্র ১১২, যা আধুনিক ক্রিকেটের সাথে বড্ড বেমানান।
নিজের এই বাজে ব্যাটিং ফর্মের প্রভাব নিশ্চিত ভাবে পড়ছে অধিনায়কত্বেও। যিনি নেতা তিনিই যদি স্বয়ং ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন, তাহলে বাকিদের প্রেরণা জোগানোটাও তাঁর পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়।











