হার্শিতের ইম্প্যাক্ট সকল অপবাদের বিরুদ্ধের গৌতমের ঢাল

গৌতম গম্ভীরের প্রিয় ছাত্র হার্শিত রানা, এ কারণেই থাকেন তিনি দলে। এমন একটা মতবাদ রয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে তিনি একজন পারফরমার, আরও বৃহৎ চিত্রে তিনি একজন গেম চেঞ্জার- ঠিক সে কারণেই তিনি ভারতের একাদশে সুযোগ পান। আর সেই গেম চেঞ্জার সত্ত্বার পরিচয় দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে।

পেসার হার্শিত রানা দিনশেষে ৬৫ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন দুইটি উইকেট। পরিসংখ্যান কখনোই অন্তর্নিহিত পরিস্থিতির যথাযথ তথ্য দেয় না। নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং জুটিতে রান এসেছিল ১১৭। সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল ম্যাচের ড্রাইভিং সিটেই রয়েছে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু দৃশ্যপটে সেই মুহূর্তে উইকেট শিকারি হার্শিতের আগমন।

এসেই তিনি পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন হার্শিত। নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনা তখন প্রবলভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়। এ কাজটায় দারুণ পটু হার্শিত রানা। এখন পর্যন্ত ১২টি ওয়ানডে ম্যাচে ২২টি উইকেট শিকার করেছেন হার্শিত। তার স্ট্রাইকরেট ২৫.৯। অর্থাৎ প্রতি ২৬ বলে একটি করে উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেছেন ডানহাতি এই পেস বোলার।

এখানেই শেষ নয়। ব্যাট হাতেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে জানেন তিনি। যেমনটি করে দেখিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই। বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ারের জমাট বাঁধা জুটিতে ভাঙন ধরে বিরাটের বিদায়ে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে শ্রেয়াস ও রবীন্দ্র জাদেজাও ফেরেন প্যাভিলিয়নে। সেই মুহূর্তে ভারতের দলীয় সংগ্রহ ছিল পাঁচ উইকেটে ২৪২।

ওই মুহূর্তে চাপের বলয় ঘিরে ধরে ভারতকে। ঠিক সেই সময়ে হার্শিত আসেন বাইশ গজে। খেলেছেন ২৩ বলে ৩০ রানের ছোট্ট এক ক্যামিও। একটি ছক্কা ও দুইটি চারে চাপের বলয় ছিদ্র করেন তিনি। সেখান থেকে পরবর্তীতে লোকেশ রাহুলকে ম্যাচ জেতাতে খুব একটা কষ্ট আর করতে হয়নি।

বেগতিক পরিস্থিতিতে হার্শিতের এই অবদানগুলোই ভারতের জন্য ভীষণ প্রয়োজন। একজন শিকারি বোলার, সাথে আট নম্বরে খানিকটা ব্যাটিং জানা ব্যাটার- এই দুইয়ের মিশেলে হার্শিত রানা এখন এক গুরুত্বপূর্ণ ক্যারেক্টার। নানা অপবাদে তার অন্তর্ভুক্তিকে খাটো করে দেখানো যেতেই পারে। কিন্তু দলের প্রয়োজন মেটাতে পারেন বলেই তিনি থাকেন একাদশে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link