আরও একটি ডাক সাইফ হাসানের। টানা দু’টো ম্যাচে শূন্যরানে ফিরলেন ডানহাতি এই ব্যাটার। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়কের ফর্ম একেবারে মাটির সাথে গড়াগড়ি খাচ্ছে। এমন দুর্দশা রীতিমত এক অশনি সংকেত। বাংলাদেশ দলের টিম ম্যানেজমেন্টের দুশ্চিন্তার বাড়িয়ে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের বোলার আবদুল গাফফার সাকলাইনের বলে লেগ বিফোর আউট হয়েছেন সাইফ। প্রথম বলেই তার এমন অসহায়ত্ব বরং তার তলানিতে থাকা আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। ব্যাপক প্রত্যাশার নিয়ে তাকে দলে ভিড়িয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। কিন্তু সেই প্রত্যাশা যেন ক্রমশ এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
এখন অবধি সাইফ ঢাকার জার্সিতে ম্যাচ খেলতে নেমেছেন ৭ ম্যাচ। এর সাত ম্যাচে সর্বসাকুল্যে তার সংগ্রহ ৪৮ রান। ভয়াবহ অবস্থা! সর্বোচ্চ ২২ রান অবধি নিজের ইনিংসকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন সাইফ। মাঝে তাকে একাদশ থেকে বিরতিও দেওয়া হয়। কিন্তু সেই বিরতিও কাজে আসেনি তার। দুর্দশা আরও বেশি জেকে বসেছে তার কাঁধে।

অথচ বিপিএলের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। ১৫ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৩৯১ রান নিয়েছিলেন বাংলাদেশের পক্ষে। এশিয়া কাপের মত মঞ্চেও তিনি ছিলেন দলের ভরসার জায়াগ, পারফরম করেই নিজেকে সেই স্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সে কারণেই তাকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু সেই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মানসিক দৃঢ়তা ক্রমশ হারিয়ে ফেলছেন সাইফ হাসান। একজন ব্যাটারের ব্যাটে রানই তার সমস্ত শক্তির উৎস। কিন্তু সেই রানটুকুও আসছে না সাইফের ব্যাট থেকে। স্ট্রাইকরেট বা আনুসাঙ্গিক অন্যসব কিছুই এক্ষেত্রে গৌণ। এমন বিপর্যস্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি যখন বিশ্বকাপে পৌছাবেন, তখন বাড়তি চাপে একেবারে মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে পারেন সাইফ। বিশ্ব দরবারে তখন আর তাকে টেনে তোলার উপায় থাকবে না।
এখনও দলের বদল আনার সুযোগ থাকছে। তবে সহ-অধিনায়ককে বাদ দেওয়া দ্বিধার সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাচকরা এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নানান কিছু প্রভাবক হিসেবে সামনে চলে আসতে পারে। এত প্রতিবন্ধকতা ঠেলে সাইফকে বাদ দেওয়ার পরিবর্তে তাকে ফর্মে ফেরানো কিভাবে যায়- সে পরিকল্পনাই হয়ত করতে চাইবে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।












