ফুটবল বিধাতা বোধহয় চিত্রনাট্যগুলো এভাবেই লেখেন। আটলান্টিকের এক পাড়ে যখন গোলবন্যার তোড়ে পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করছেন আর্লিং হাল্যান্ড, ঠিক সেই সময়েই অন্য পাড়ে ব্রাজিলের তপ্ত ধূলিকণায় বেড়ে উঠছিল এক কিশোর। যার ধমনীতে সাম্বার তাল থাকলেও গুরু হিসেবে মানেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে। নাম তার ওয়েন্দেল ওয়ান্দারলেই সান্তোস দি মেলো, তবে ফুটবলবিশ্বে তিনি ‘দেল’ হিসেবেই পরিচিত।
সারজিপের ধূসর প্রান্তরে, যেখানে প্রখর রোদে মাটি ফেটে চৌচির হয়, সেই সেরতাও অঞ্চলের সন্তান দেল। প্রতিকূল পরিবেশে বড় হওয়া এই কিশোরের এক অধরা স্বপ্ন ছিল, আর্লিং হাল্যান্ডকে কাছ থেকে দেখা। কিন্তু নিয়তি তাকে উপহার দিল স্বপ্নের চেয়েও বড় কিছু।
সিটির তারকা হাল্যান্ড যখন ভিডিও বার্তায় দেলকে ইতিহাদে আমন্ত্রণ জানান, তখন যেন রূপকথার পাতা থেকে উঠে আসা এক দৃশ্য বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। দেলও পাল্টা বার্তায় জানিয়ে দিলেন, তিনি আসছেন। আর সেই বার্তায় হাল্যান্ডের সেই বিখ্যাত ‘পদ্মাসন’ উদযাপন করে বুঝিয়ে দিলেন – শিষ্য তৈরি গুরুর পথেই হাঁটতে।

দেলের ফুটবলের ব্যাকরণ শুরু হয়েছিল দানি আলভেসের ক্লাব বাহিয়াতে। ২০২৩ সালে বাহিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে দেলের মাঠে নামা মানেই ছিল গোল। ৩৪ ম্যাচে ৪০ বার জাল কাঁপিয়ে তিনি জানান দিয়েছিলেন, ব্রাজিল পেতে যাচ্ছে এক অপ্রতিরোধ্য নাম্বার নাইন।
পরবর্তীতে কাতারের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে সেই দর্শনীয় গোল। বুক দিয়ে বল নামিয়ে গোলরক্ষককে পরাস্ত করা, সব মিলিয়ে দেল এখন বিশ্ব ফুটবলের এক কাঙ্ক্ষিত নাম।
তবে এতেই তুষ্ট নন তিনি, দেলের স্বপ্ন এখন আরও সুবিস্তৃত। তিনি কেবল গ্যালারিতে বসে হাল্যান্ডের খেলা দেখেই তৃপ্ত হতে চান না। তার চোখে এখন নতুন স্বপ্ন। একদিন হয়তো ইতিহাদের সবুজ গালিচায় হাল্যান্ডের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গোল উৎসবে মাতবেন তিনি।











