জিম্বাবুয়ের নিজস্ব বিপ্লবের ‘রাজা’ সিকান্দার

ঢাল তলোয়ার নেই, তবুও লড়াই করল জিম্বাবুয়ে- আর সেই লড়াইয়ের সকল রণকৌশল সাজিয়েছিলেন সিকান্দার রাজা।

ঢাল তলোয়ার নেই, তবুও লড়াই করল জিম্বাবুয়ে- আর সেই লড়াইয়ের সকল রণকৌশল সাজিয়েছিলেন সিকান্দার রাজা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচেও তিনি সামনে থেকে দলকে দিলেন নেতৃত্ব। কোন সমীকরণ বাকি নেই, তবুও জিম্বাবুয়ের হেলার প্রতিবাদ অন্তত দিয়ে যেতে চাইলেন।

নিখাঁদ নিয়ম রক্ষার ম্যাচ। এই ম্যাচে প্রোটিয়াদের বোলিং তোপে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং অর্ডার। তবে সেই বিপর্যস্ত পরিস্থিতির মাঝে অবিচল প্রতিরোধের স্লোগান তুলে গেছেন সিকান্দার রাজা। পরোয়া করেননি তিনি দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারদের গতি। তিনি বলের মেরিট বুঝে নিজের স্বভাবজাত খেলাটাই খেলেছেন।

এক প্রান্ত থেকে উইকেট পতনের মিছিলের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি রানের চাকাকে সচল রেখেছেন। ৪৩ বলে ৭৩ রানে তিনি দলের মান বাঁচানো ইনিংস খেলে গেছেন। আট খানা চার ও চার খানা ছক্কার প্রহারে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছেন। বাস্তবতা হচ্ছে সেই অর্থে তিনি দলের কারো সহযোগিতা পাননি।

সবাই বাইশ গজে এসেছেন, কিছুক্ষণ থেকেছেন- এরপর ফিরে গেছেন সাজঘরে। সিকান্দারের ৭৩ রানের ইনিংসটি ছাড়া আর কেবল ক্লাইভ মাদান্দে পেরিয়েছেন ২০ রানের গণ্ডি। এই দুর্দশার মাঝে রাজার ইনিংসটি বিপ্লবের প্রতিমূর্তি। প্রতিপক্ষ অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকা, চ্যাম্পিয়নশীপের অন্যতম প্রবল দাবিদার। সাম্রাজ্যবাদের উদাহরণ বলা যেতে পারে অনায়াসে।

শক্তির  প্রদর্শন ঘটিয়ে তারা চেপে ধরেছেন জিম্বাবুয়েকে। তবুও সহজে জিম্বাবুয়ের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি ওই এক সিকান্দার রাজার কারণে। সকল আগ্রাসনের একা হাতে প্রতিহত করবার তীব্র লড়াই করেছেন তিনি। দিনশেষে হয়ত জয়ের সৌভাগ্য ধরা দেবে না, তবে বিপ্লবের সেই সুর ছড়িয়ে যাবে বহুদূর।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link