বাবার হাতে গ্লাভস আর উইকেটের পেছনে ক্ষিপ্রতা দেখে বড় হওয়া সেই ছোট্ট ছেলেটি আজ নিজেই হয়ে উঠলেন রূপকথার নায়ক। মাঠের সবুজ গালিচায় জাহাঙ্গীর আলমের উত্তরাধিকারী হিসেবে নয়, বরং জিশান আলম ডানা মেললেন আপন মহিমায়। মিরপুরের আকাশে যখন জিশানের ব্যাট ঝলসে উঠল, তখন কেবল বাউন্ডারির ফুলঝুরিই ছোটেনি, রচিত হয়েছে এক নতুন ইতিহাস।
ক্যারিয়ারের প্রথম লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরির রাজকীয় আখ্যানে জিশান কেবল দলকে জয়ই উপহার দেননি, নিজেকে নিয়ে গেছেন ১০০০ রানের মাইলফলকের এক অনন্য উচ্চতায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) হাইভোল্টেজ ম্যাচে নর্থ জোনের ছুড়ে দেওয়া ৩২৩ রানের লক্ষ্যটা যেকোন দলের জন্যই ছিল রীতিমতো হিমালয় জয়ের সমান। কিন্তু সেই পাহাড় টপকানোর মিশনে সেন্ট্রাল জোনের হয়ে শুরু থেকেই রুদ্রমূর্তিতে আবির্ভূত হন ওপেনার জিশান আলম।

বোলারদের শাসন করে মাত্র ৯৩ বলে খেলেন ১২৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। তার এই দানবীয় ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই শেষ ওভারের নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে নেয় সেন্ট্রাল জোন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নামে নর্থ জোন। লিটন-শান্তদের ব্যর্থতার দিনে তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয়ের ১৩৫ রানের বিশাল জুটি ইনিংসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তানজিদ ৯২ রানে ফিরলেও হৃদয় পূর্ণ করেন দৃষ্টিনন্দন এক সেঞ্চুরি। শেষ দিকে সাব্বির রহমানের ৫১ বলে ৭৩ রানের টর্নেডো নর্থ জোনকে এনে দেয় ৩২২ রানের বিশাল পুঁজি।
৩২৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সেন্ট্রাল জোনের ইনিংসের মেরুদণ্ড হয়ে দাঁড়ান জিশান আলম। ওপেনিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হন তিনি। মাত্র ৯৩ বলে ১২৭ রানের এক নান্দনিক ইনিংস খেলে যখন জিশান সাজঘরে ফেরেন, তখন সেন্ট্রাল জোনের স্কোর ১৮৮।

শেষ ২০ ওভারে দলের প্রয়োজন ছিল ১৩৬ রান। এই কঠিন সমীকরণে কান্ডারি হয়ে দাঁড়ান অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন এবং অভিজ্ঞ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। মোসাদ্দেকের মাত্র ২৬ বলে ৫৪ রানের টর্নেডো ইনিংসের সুবাদে শেষ ওভারে জয় নিশ্চিত করে সেন্ট্রাল জোন।
এই সেঞ্চুরির পথেই জিশান আলম লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১,০০০ রানের অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করেন। ৩৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ২৯.৭৮ গড়ে এখন তার সংগ্রহ ১,১০২ রান। এই জয়ের সুবাদে লিগ টেবিলের শীর্ষ দুই দল হিসেবে ৩ মার্চ মিরপুরের ফাইনালে আবারো মুখোমুখি হবে সেন্ট্রাল জোন ও নর্থ জোন।










