গৌতম গম্ভীরের ভরসার হাত তাঁর মাথায়, বিরাট কোহলির উত্তরসূরী তিনি। খোদ মহেন্দ্র সিং ধোনির ভবিষ্যৎ তিনি। সাঞ্জু স্যামসন তো তাই তিনজনের সমতুল্যই হবেন। বিরাট কোহলির মত একটা ক্লাসি নক খেলে রান চেজ করলেন, ধোনির মত ম্যাচ ফিনিশ করলেন, ছক্কায় ভাসালেন ইডেন গার্ডেন্স।
তিনি গৌতম গম্ভীরের মত আবারও ‘৯৭’ সংখ্যাটাকে অমরত্ব দিলেন। হ্যাঁ, ৯৭ যেন ভারতের ক্রিকেটেরই চিরকালীন সত্য, সেটা কখনও গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথের ব্যাটে, কখনও কপিল দেবের আগ্রাসনে, কখনওবা ঋষাভ পান্তের পাগলাটে শৈল্পিক হাসিতে।
ক্রিকেটে সেঞ্চুরি মানেই উৎসব। তিন অঙ্ক ছোঁয়া মানেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখা। কিন্তু কখনও কখনও ৯৭-ই হয়ে ওঠে শতকের চেয়েও বড়। কারণ, সব ইনিংস রান দিয়ে মাপা যায় না—মাপা যায় পরিস্থিতি, চাপ আর প্রভাব দিয়ে।

২০১১ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল, মুম্বাইয়ের ওয়াঙখেড়ে। প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। তরুণ ভারতীয় দল তখন স্বপ্ন আর চাপ—দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। সেই ম্যাচে গৌতম গম্ভীর খেলেছিলেন ৯৭ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস। ১২২ বলে গড়া সেই ৯৭ শুধু স্কোরবোর্ডে সংখ্যা নয়, ছিল ভারতের শিরোপা জয়ের ভিত। সেঞ্চুরি হয়নি, কিন্তু দল জিতেছে। আর সেই ৯৭ আজও ভারতীয় ক্রিকেটভক্তদের মনে শতকের চেয়েও উজ্জ্বল।
৯৭-এর আগেও এসেছে। ঐতিহাসিক সিডনি টেস্টের পঞ্চম দিন। ঋষাভ পান্ত পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সামনে। মাটি কামড়ে করা সেই ৯৭ রানের ইনিংস ভারত ড্র করে, পরের ম্যাচ জিতে পায় বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির শিরোপা।
১৯৭৫ সালে চিপকে শিল্পী ব্যাটসম্যান গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথের ৯৭ করেন খ্যাতনামা ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলিং লাইন আপ কাঁপিয়ে। ম্যাচটা ভারত জিতে ১০০ রানে। ১৯৮২ সালে কপিল দেব ৯৭ রান করেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে, কাউন্টার অ্যাটাকের ইনিংসে খেলেন ৯৩ বল। ভারতকে করেন বিপদমুক্ত।

এতগুলো বছর পর আরেকটি ৯৭ অন্যরকম আবেগ তৈরি করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে মাত্র ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ করেন সঞ্জু স্যামসন। ইনিংসটি ছিল নিখাদ আগ্রাসন আর আত্মবিশ্বাসের প্রদর্শনী। চার-ছক্কার বৃষ্টি, মাঠজুড়ে শটের কারুকাজ। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ইনিংস শেষ, কিন্তু দর্শকের মনে রয়ে গেল সম্পূর্ণতার অনুভূতি। কখনও কখনও নট আউট ৯৭-ও পূর্ণতার প্রতীক হয়ে ওঠে।
এই দুই ইনিংস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ক্রিকেটে সব গল্প শতকে লেখা হয় না। কিছু গল্প ৯৭-এই সম্পূর্ণ। কারণ সেখানে থাকে লড়াই, সাহস আর মুহূর্তকে নিজের করে নেওয়ার ক্ষমতা।










