পাকিস্তান দলের বাংলাদেশ সফর দুয়ারে, জল্পনাও তুঙ্গে। কিন্তু সব আলোচনা আপাতত থেমে যাচ্ছে এক জায়গায়—এই সিরিজে সাকিব আল হাসানকে দেখা যাচ্ছে না। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পক্ষ থেকে ‘নরম সুর’-এর ইঙ্গিত মিললেও বাস্তবতা ভিন্ন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আপাতত জাতীয় দলে ফেরার কোনো সুযোগ নেই সাকিব আল হাসানের।
ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভেতরের সূত্রের দাবি, প্রকাশ্যে ইতিবাচক মন্তব্য করলেও রাষ্ট্রীয় অবস্থান পরিষ্কার—সাকিবকে দেশে ফিরে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মুখোমুখি হতে হবে। সেটিই মূল শর্ত। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ে নামতে অনীহা রয়েছে শাকিবের। ফলে পাকিস্তান সিরিজে তাঁর ফেরা নিয়ে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা আপাতত থামছেই।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাকিবের ফেরার খবর মূলত ‘মিডিয়া-চালিত হাইপ’। বর্তমান বোর্ড ও ক্রিকেট প্রশাসনকে ঘিরে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হিসেবেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘এই মুহূর্তে দলে ফেরার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।’

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি কিছুটা নরম হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে সাবেক এই সংসদ সদস্যকে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি—ফলে মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে বিদায়ী ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাও ভেস্তে যায়।
এরপর জানুয়ারিতে বিসিবি জানায়, প্রাপ্যতা সাপেক্ষে ঘরের ও বাইরের সিরিজে সাকিব বিবেচনায় থাকবেন। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার পরিবর্তন হলে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগস্ট-পরবর্তী মামলাগুলো পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়—যা অনেকেই ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখেন। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীও বলেন, আইনি জটিলতা সমাধান হলে সাকিবের ফেরা অসম্ভব নয়।
কিন্তু জট খুলতে সময় লাগছে। সাকিবের কিছু মামলা জামিনযোগ্য এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সাকিবের দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার ওপর। আর সেখানেই মূল জট।

পাকিস্তান দল ৯ মার্চ তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসছে। সিরিজ ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে, কিন্তু সাকিব প্রসঙ্গে আপাতত দরজা বন্ধই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল। নিজেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি।
ফলে দেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চয়তার দোলাচলে। মাঠে ফেরার আগে তাঁকে পেরোতে হবে আইনের পথ—এটাই আপাতত পরিষ্কার বার্তা।










