ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম আর অভিষেক শর্মা – এক বছর আগের এক বিধ্বংসী স্মৃতি এখনও টাটকা। এই মাঠেই ইংল্যান্ডের বোলারদের তুলাধোনা করে ৫৪ বলে ১৩৫ রানের এক মহাকাব্যিক তাণ্ডব চালিয়েছিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
সেই একই মাঠে, আবারও প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। কিন্তু উপলক্ষটা এবার বেশ বড়। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ফর্মের তুঙ্গে থাকা সেই অভিষেক অবশ্য এখন রানখরায় দিশেহারা। প্রশ্ন একটাই, চেনা আঙিনায় কি ফিরবে সেই হারানো রুদ্রমূর্তি?
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদটা ছিল আকাশচুম্বী। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ফিফটি ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে তার ব্যাট থেকে এসেছে কেবল ২৫ রান। তিনটি ম্যাচে তো রানের দেখাই পাননি টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে সবচেয়ে উপরে থাকা এই ব্যাটার।
তবে অফফর্মের মেঘ ঘনীভূত হলেও ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের ওপর থেকে আস্থা সরায়নি। সেমিফাইনালের রণকৌশলে তাই তার জায়গার নড়চড় হওয়ার সম্ভাবনাও খুবই ক্ষীণ।

মুম্বাইয়ের নেটে অভিষেককে এবার দেখা গেল ভিন্ন মেজাজে। ইনিংসের শুরুতেই অফ স্পিনার এবং ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে বারবার পরাস্ত হওয়া এই ব্যাটার এবার সোজা ব্যাটে খেলার দিকেই বেশি মনোযোগী।
বিশেষ করে লেগ সাইডে অযথা হুক বা পুল শট খেলার প্রলোভন সামলানোর কঠোর সাধনা করেছেন তিনি। সালমান আঘা কিংবা আরিয়ান দত্তের বিপক্ষে অভিষেকের এই নাজেহাল দশা দেখে হ্যারি ব্রুক হয়তো শুরুতেই উইল জ্যাকসকে আক্রমণে আনতে পারেন।
যদিও ভারত তাদের বাঁহাতি ব্যাটারদের আধিক্য সামলাতে সাঞ্জু স্যামসনকে একাদশে রেখেছে, তবুও অভিষেকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্পিনের বিরুদ্ধে পুল শট খেলার প্রলোভন সামলানো। জোফরা আর্চার, জেমি ওভারটন কিংবা আদিল রশিদের মতো বিশ্বমানের বোলারদের শাসন করে গত বছর এই মাঠেই ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন অভিষেক।
ভারতীয় ক্রিকেট মহল এখন সেই চিরচেনা অভিষেকের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে। নিজের প্রিয় মাঠে স্মৃতি হাতড়ে অভিষেক কি আবারও সেই ‘দ্য ফিয়ারলেস অভিষেক’ হয়ে উঠতে পারবেন? উত্তরটা এখন সময়ের অপেক্ষা কেবল।











