নক আউট লড়াই মানেই স্নায়ুর চাপ, আর ভারতের বিপক্ষে সেই মঞ্চে নামলেই যেন খেই হারিয়ে ফেলছেন প্রতিপক্ষ অধিনায়করা। ইডেন গার্ডেন্সে শাই হোপের মন্থর ব্যাটিং থেকে শুরু করে সেমিফাইনালে হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ মিস – নিজেদের ভুলে ভারতের জয়যাত্রা যেন আরও সহজ করে দিচ্ছেন নেতৃত্বস্থানীয়রাই।
কলকাতায় অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হয় আসর জুড়ে দাপট দেখানো ক্যারিবীয়রা। টসে হেরে ব্যাট করতে নামলে ৩৩ বলে ৩২ রানে এক সেকেলে ইনিংস খেলেন উইন্ডিজ অধিনায়ক হোপ। দলের অন্য সব ব্যাটাররা যেখানে একশো পঞ্চাশোর্ধ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট চালিয়েছে, সেখানে পাওয়ারপ্লেতে এই ধীরগতির ইনিংস খেলায় নিশ্চিতভাবেই সমালোচনার শিকার হয়েছেন তিনি।
স্লগ ওভারে রভম্যান পাওয়েল ও জেসন হোল্ডারের বিধ্বংসী ফিনিশিংয়ে স্বাগতিকদের ১৯৫ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাঞ্জু স্যামসনের অপরাজিত ৯৭ রানের ঝড়ে পাঁচ উইকেট বাকি রেখে ম্যাচ নিজেদের নামে লেখায় ভারত। হোপের সেই বিতর্কিত ইনিংসের ফলেই যেন কিছুটা রান কমতি ছিল উইন্ডিজদের।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওয়াংখেড়ের উত্তাল গ্যালারির সামনে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড। সেখানেও দৃশ্যপট বদলায়নি। জোফরা আর্চারের বলে সাঞ্জু স্যামসন যখন মাত্র ১৫ রানে দাঁড়িয়ে, তখন মিড অনে তার সহজ ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। সেই জীবন পাওয়ার সুযোগটা দুহাত ভরে কাজে লাগিয়েছেন সাঞ্জু।
৪২ বলে ৮৯ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে ভারতকে ২৫৩ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ এনে দেন তিনি। লুফে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কারও। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্রুক নিজেও ব্যর্থতার পরিচয় দেন। জাসপ্রিত বুমরাহর বলে মাত্র সাত রান করেই বিদায় নেন এই দলপতি। শেষদিকে জ্যাকব বেথেলের অতিমানবীয় লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে থামতে হয় মাত্র সাত রান দূরত্বে।
ইডেনে শাই হোপের সেই আক্ষেপ আর ওয়াংখেড়েতে হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ মিসের মাশুল গুনে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হলো দুই শক্তিশালী দলকে। দিনশেষে ক্রিকেট ইতিহাসে হয়তো পরিসংখ্যান কথা বলবে, কিন্তু হারের ব্যবচ্ছেদ করতে বসলে বারবারই কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এই দুই কাণ্ডারিকে।











