আলেহান্দ্রো ফার্গুসন, আর্জেন্টিনার ক্রিকেট ইতিহাসের চলমান এক মহাকাব্য। ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকে তিন দশক ধরে দেশের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। বয়স ৪৭ পেরোলেও চোখেমুখে ক্লান্তির ছাপ বিন্দুমাত্র আসেনি। এ যেন মহাবিশ্বের এক দুর্লভ আশ্চর্য।
১৯৯৪ সালের আইসিসি ট্রফিতে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ ছিলো বাংলাদেশের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে খেলেছিলেন আলেহান্দ্রোর বাবা টনি ফার্গুসন। ছেলে আলেহান্দ্রো দলে থাকলেও একাদশে সুযোগ পাননি। অপেক্ষা অবশ্য বেশি দীর্ঘায়িত হয়নি। পরের ম্যাচেই আরব আমিরাতের বিপক্ষে এক মাঠে ছিলেন বাবা-ছেলে দু’জনই। ইতিহাসে এমন মুহূর্ত বিরল। বাবা টনি এবং ছেলে আলেহান্দ্রো একই একাদশে নামেন এবং ক্রিকেটের পৃষ্ঠায় লিখে রাখেন নতুন অধ্যায়।
আলেহান্দ্রোর পরিবারই আর্জেন্টিনার ক্রিকেটের একটি ব্যালিস্টিক লাইন, দাদা জর্জ ফার্গুসন, বাবা টনি ফার্গুসন এবং এখন আলেহান্দ্রো। তিন প্রজন্মের ক্রিকেটের উত্তরাধিকার। এ কেবল খেলার ধারা নয়, এটি একটি পরম্পরা, এক জাতির ক্রিকেটীয় পরিচয়ের ধারাবাহিকতা।

এ বছরেই আলেহান্দ্রো ফার্গুসন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখবেন ৩২তম বছরে। ৮ মার্চ কেম্যান আইল্যান্ডসে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৮ আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আমেরিকা সাব-রিজিওনাল কোয়ালিফায়ার। এই টুর্নামেন্টে নামলেই তিনি রেকর্ড করবেন এক অনন্য অর্জনের, ৩২ বছর ধরে দেশের হয়ে খেলার অদ্বিতীয় কীর্তি।
৪৭ বছর বয়সে, আলেহান্দ্রো ফার্গুসনের খেলার মান, চমক এবং তাড়না আগের মতোই উজ্জ্বল। প্রতিটি বল, প্রতিটি ক্যাচ, প্রতিটি রান—সবকিছুই যেন ফুটিয়ে তোলে তাঁর অভিজ্ঞতা, দৃষ্টি এবং লড়াই। বয়স কেবল সংখ্যা; প্রতিটি মুহূর্তে তিনি প্রমাণ করেছেন যে অভিজ্ঞতা আর প্রতিভার মিলনই তৈরি করে সত্যিকারের কিংবদন্তি।
আলেহান্দ্রো ফার্গুসনের ক্যারিয়ার কেবল ব্যাটিং বা বোলিংয়ের রেকর্ড নয়। এটি আর্জেন্টিনার ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি চলমান অধ্যায়। তিন দশক ধরে তিনি দেশের হয়ে নতুন পরিচয় দিয়েছেন, নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছেন, নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছেন। আজও সেই যাত্রা থেমে নেই। তাঁর ব্যাট, তাঁর লড়াই, সবকিছুই গড়ে তুলেছে এক কিংবদন্তির কাহিনী।












