শাদাবের রাজকীয় দিন!

দিনটা শাদাব খানের জন্যই যেন লেখা হয়েছিল। বল হাতে আলো ঝলমলে স্পেল শেষে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থেকে দলকে জেতানো নক। এক কথায় ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট।

দিনটা শাদাব খানের জন্যই যেন লেখা হয়েছিল। বল হাতে আলো ঝলমলে স্পেল শেষে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থেকে দলকে জেতানো নক। এক কথায় ক্যাপ্টেন লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট।

দলের প্রয়োজনে শাদাব যেকোনো কিছুই করতে পারেন। কখনও বল হাতে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে মুচড়ে দেওয়া, কখনও নিখাদ ব্যাটার হিসেবে আবির্ভূত হওয়া। কখনও দুটোই। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের জন্য জমা ছিল শেষের দুঃসংবাদটাই।

শুরুটা ছিল বল হাতে। কোয়েটার ব্যাটিং লাইন-আপ যখনই চোখ রাঙিয়েছে তখনই শাসকের ভঙ্গিতে দমন করেছেন শত্রুকে। সতীর্থরা যখন মুষড়ে পড়েছে দায়িত্ব কাঁধে নিজের সেরাটা নিংড়ে দিয়েছেন শাদাব। চার ওভার শেষে ২৩ রান খরচায় বাগিয়ে নিয়েছেন তিন শিকার।

তাঁর কল্যাণেই মূলত ১৮৩ তেই থেমেছে কোয়েটার রানের চাকা। নইলে তা ছাড়াতে পারত দুইশোর গণ্ডি। তবে গল্পটা শাদাব তখনও শেষ করেননি।

বল হাতে দাপট দেখানোর পর ব্যাট হাতে রাজত্ব করতে নামলেন বাইশ গজে। চারে নেমে হাল ধরলেন দলের। পণ করলেন ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়বেন।

সেটাই করেছেন। হিসাব মাথায় টুকে নিয়ে ম্যাচ জেতানো নক এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। তরুণ তুর্কি সামির মিনহাসকে আগলে রেখেছেন, সাহস জুগিয়েছেন। দুজনে মিলে গড়েছেন ১২৮ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি। নিজের ব্যাট থেকে আসা সংখ্যাটা হার না মানা ৬৯ রান।

এই পারফরম্যান্স শুধু ভালো বিশেষণে বিশেষায়িত করার উপায় নেই। এটা ছিল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক। একজন খেলোয়াড় যখন ব্যাটে ম্যাচ জেতান, সেটা বিশাল ব্যাপার।

কিন্তু যখন একই খেলোয়াড় বল হাতেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন—তখন সেটাকে বলা হয় “পিউর অলরাউন্ডিং ডমিনেশন”। শাদাব সেটাই করেছেন।

ক্যাপ্টেন হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার যে সংজ্ঞা, সেটার জীবন্ত উদাহরণ হয়ে থাকল এই ম্যাচ। ‘লিডিং ফ্রম দ্য ফ্রন্ট’ এটা বইয়ের ভাষা নয়, বরং পিএসএলের মঞ্চে ধরা দিল বাস্তব দৃশ্য।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link