চেন্নাইয়ের এমএ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামের চেনা গ্যালারি আজ কিছুটা নিস্তব্ধ। ঘরের মাঠে পাঞ্জাব কিংসের কাছে হার এবং তার আগে গুয়াহাটিতে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে অসহায় আত্মসমর্পণ – পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংসের জন্য সময়টা যেন বড্ড প্রতিকূল। এরই মাঝে প্রশ্ন – অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড কি দলে সাঞ্জু স্যামসনের উপস্থিতিতে নিজের সিংহাসন নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত?
২০২৬ আইপিএল নিলামের ঠিক আগেই ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে রাজস্থান রয়্যালস থেকে সাঞ্জু স্যামসনকে ডেরায় ভেড়ায় চেন্নাই। ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর রাজস্থানকে নেতৃত্ব দেওয়া সাঞ্জু শুধু একজন বিধ্বংসী ব্যাটারই নন, একজন পরীক্ষিত অধিনায়কও বটে। আর এখানেই দানা বাঁধছে বিতর্কের বীজ।
সম্প্রতি ক্রিকবাজের এক আলোচনায় ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন এবং নিউজিল্যান্ডের সাবেক খেলোয়াড় সাইমন ডুল এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। ভন যখন প্রশ্ন তোলেন, রুতুরাজ কি সঞ্জুর ছায়ায় নিজেকে কিছুটা কোণঠাসা অনুভব করছেন? তখন সাইমন ডুলও তা স্বীকার করেন।
ভনের মতে, রুতুরাজ লিগের অন্যতম তরুণ ও প্রতিভাবান অধিনায়ক। ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে পূর্ণ সমর্থন দিলেও সাঞ্জু স্যামসনের মতো একজন অভিজ্ঞ লিডার এবং উইকেটকিপার ব্যাটারকে দলে আনা এক বিশেষ ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি বলেন, ‘চেন্নাইয়ের ইতিহাসে উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনির যে বিশাল উত্তরাধিকার, সেখানে সাঞ্জুকে কি ধোনির সেই শূন্যস্থান পূরণের দীর্ঘমেয়াদী অস্ত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে? এই প্রশ্নটিই রুতুরাজের ওপর এক বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি করছে।’
তবে আলোচ্য দুইজনের কেউই আসরের শুরুতে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি। প্রথম ম্যাচে রাজস্থানের বিপক্ষে দুইজনেই ড্রেসিং রুমে ফেরেন ছয় রান করে। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘরের মাঠে এসেও এক অঙ্কেই সীমাবদ্ধ থাকে সাঞ্জুর ইনিংস।
একদিকে গায়কোয়াডের নেতৃত্ব হারানোর শঙ্কা, অন্যদিকে ট্রেডের কল্যাণে নতুন দলে আসা এবং বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স এর ফলে সাঞ্জুর উপর সবার বাড়তি প্রত্যাশাই দুইজনের উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
চেন্নাইয়ের আকাশ এখন একটাই উত্তর খুঁজছে – এই দুই তারকার ব্যক্তিগত লড়াই কি শেষ পর্যন্ত টিম স্পিরিটকে গ্রাস করবে? নাকি চাপের পাহাড় ডিঙিয়ে তারা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠবেন? আপাতত মাঠের পারফরম্যান্স বলছে, নেতৃত্বের এই ছায়াযুদ্ধে হারছে ক্রিকেট, আর ভুগছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।












