ছয় বলে নয় রানের সমীকরণ, হিসাব একটু একটু করে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ম্যাচের ভাগ্য ঝুলে আছে পেন্ডুলামের মতো। সেখানেই ঋষাভ পান্ত লখনৌ সুপার জায়ান্টসের ত্রাতা হয়ে এলেন। দাঁড়িয়ে থেকে দলকে জিতিয়েছেন। অবশ্য পুরো ম্যাচই নিজের হাতেই যে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের ভাগ্য লিখেছেন।
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্যটা ১৫৭। আইপিএলের মারমার কাটকাট মেজাজের সামনে মামুলি স্কোরই বটে। তবে ক্রিকেট তো আর কাগজ-কলমের হিসাব কিংবা মুখের কথা শোনে না। ম্যাচের মোড় ঘুরতে এখানে সময় লাগে না।
৩৭ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে লখনৌয়ের। বিদায় বলেন মিচেল মার্শ। তাঁর বেরিয়ে যাওয়া পথ ধরেই আগমন ঘটে কাপ্তান পন্তের। অর্থাৎ প্রথম ম্যাচের মতো ওপেন নয়, কাঁধে নিলেন তিন নম্বর পজিশনের গুরুদায়িত্ব।

টার্গেটটা হাতের নাগালে। তবে সেটা ছুঁতে হলে পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। যেখানে পা হড়কালেই ঘটতে পারে বিপদ। ঋষাভ সুদূরপ্রসারী চিন্তা করে রেখেছিলেন। ম্যাচটাকে একটু একটু করে গুটিয়ে নিতে হবে। ভালো হয় নিজের বিশ্বস্ত ব্যাটে ভর করে সেই কাজটা করলে।
তাই তো ঠান্ডা মাথায় ইনিংস গুছিয়ে নিতে লাগলেন। পান্তসুলভ আগ্রাসন আজ ছিল না, ছিল না হঠকারী সব শটের বাহার। স্ট্রাইক রোটেট করা, বাজে বলটাকে সীমানা ছাড়া করা সবই করলেন হিসাব-কষে।
তবে সময় তো আর এক সরলরেখায় চলে না, বিপদও বলে কয়ে আসে না। পরপর উইকেট হারিয়ে বড়সড় বিপাকেই পড়ে যায় লখনৌ। তবে সে বিপদ ছুঁতে পারেনি ঋষাভকে। পিওর ক্যাপ্টেন্সি নক যাকে বলে, তাঁর ব্যাট থেকে সেটাই এসেছে।

শেষ ওভারে ৯ রানের হিসাব মেলাতে হতো, খুব সহজ নয় এই মোমেন্টে নার্ভ ধরে রাখা। তবে ঋষাভ বলে কথা, ভয়কে তো কত আগেই জয় করেছেন। প্রথম দুই বলে দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়েই জয়ের গান লিখে ফেলেছিলেন। তবে পরপর দুই বল ডট হওয়ায় জেঁকে বসেছিল একটা শঙ্কা। সেটাকেও সীমানা ছাড়া করলেন ঋষাভ। ক্যাপ্টেনের হাত ধরে লখনৌও পেল পাঁচ উইকেটের জয়।
Share via:











