যার ক্লাস রয়েছে সে সবখানেই পারে। স্টিভেন স্মিথের ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে এই কথাটায় খাটে। দুনিয়ার সেরা টেস্ট ব্যাটারের তকমা ঝেড়ে ফেলে এখন তিনি পুরোদস্তুর টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট। সমালোচকদের মুখের উপর যেন বলে দিয়ে গেলেন, চাইলেই আমি সব পারি।
গোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্যটা ছিল ১৬৭ রান। শাহিবজাদা ফারহানকে সাথে নিয়েই তাড়া করতে নামলেন স্মিথ। দুজনে মিলে সমান তালে তাণ্ডব চালালেন। ধ্বংসের সুরে মাতিয়ে রাখলেন লাহোরকে।
তবে সঙ্গী ফারহানকে হারানোর সাথে সাথে নিজের রূপটা এক লহমায় বদলে ফেললেন। ১৩ বলে ৩২ করা স্মিথ অর্ধশতক ছুঁতে খরচ করলেন ২৯ বল। প্রশ্ন আসতে পারে কেন এমনটা? এখানেই মূলত সামনে আসে স্মিথের অভিজ্ঞতা।

শুরুতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দরকার ছিল। স্মিথ আর ফারহান সেটা করেছেন। পাঁচ ওভারে এই জুটি তুলেছে ৭১ রান। ম্যাচ তখন হাতের মুঠোয়। সেখানেই গিয়ার শিফট করলেন স্মিথ, ইনিংস বড় করার দিকে মনোযোগ দিলেন।
এক ম্যাচ আগেই প্রলয়ের কাব্য রচনা করেছিলেন ব্যাট হাতে। হায়দ্রাবাদ কিংসম্যানের বিপক্ষে ২০ বলে ব্যক্তিগত খাতায় তুলেছিলেন ৪৬ রান। এবার কোয়েটার বিপক্ষে ৩৫ বলে ৫৩। এক ম্যাচেই যেন ধ্বংস আর ধৈর্যের মেলবন্ধন ঘটালেন। স্মিথ বলেই যে এসব সম্ভব।
ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্ন চলমান। স্মিথ যেন নতুন সুরে গা ভাসাচ্ছেন। শেষবেলায় আক্ষেপ বাড়াচ্ছেন ভক্তকূলের। আজীবন টেস্ট ব্যাটারের চাদর গায়ে জড়িয়ে থাকা স্মিথ শেষটাতে রচনা করছেন টি-টোয়েন্টি জামানার আধুনিক কবিতা। এই যে নিজেকে আমূল বদলে ফেলা, এসব যে কেবলই আফসোস বাড়ায়। সিন্দুকবন্দী করে রাখা এই টি-টোয়েন্টি সত্তাকে আগে দেখালে কি এমন ক্ষতি হতো!

Share via:











