ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, আর আইপিএল হলো সেই অনিশ্চয়তাকে রূপকথা দেওয়ার মঞ্চ। আসরের শুরুতেই দিল্লী ক্যাপিটালসের হয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আকাশজুড়ে যে নতুন ধুমকেতুর উদয় হয়েছে, তার নাম সামির রিজভি। উত্তরপ্রদেশের এই তরুণ তুর্কির ব্যাটে চড়ে দিল্লী এখন টুর্নামেন্টে অজেয় এক দুর্গ। চাপের মুখে মাথা ঠাণ্ডা রেখে ম্যাচ জেতানো যাকে বলে, রিজভি যেন তার এক জীবন্ত পাঠ্যবই হয়ে উঠেছেন।
আজ ডাগ আউটে বসে রিজভির ব্যাটিং দেখে দিল্লির কর্তারা যখন স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন, তখন কয়েক মাস আগের এক নাটকীয় প্রেক্ষাপট মনে করা জরুরি। গত নভেম্বর মাসের কথা। সাঞ্জু স্যামসনকে দিল্লী ক্যাপিটালসে আনার সব আয়োজন প্রায় সম্পন্ন ছিল।
বিনিময়ে ট্রিস্টান স্টাবসকে রাজস্থান রয়্যালসে পাঠানোর প্রস্তাবও ছিল টেবিলে। কিন্তু গোলকধাঁধাঁ বাঁধল রাজস্থানের একটি দাবিতে। তারা স্টাবসের পাশাপাশি এক তরুণ আনক্যাপড ভারতীয় ক্রিকেটারকে চেয়ে বসল। সেই নামটি ছিল সামির রিজভি।

দিল্লী ক্যাপিটালসের ম্যানেজমেন্ট তখন এক কঠিন দোটানায়। একদিকে অভিজ্ঞ ও বিস্ফোরক সাঞ্জু স্যামসন, অন্যদিকে সম্ভাবনাময় তরুণ রিজভি। শেষ পর্যন্ত দিল্লী সাঞ্জু স্যামসনকে ছেড়ে সামিরের উপরই ভরসা রাখে।
বিগত ১২-১৮ মাস রিজভি নিজেকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন। ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে নিজের দুর্বলতা ঢাকতে নেটে কাটিয়েছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলাফল? চলতি ২০২৬ মৌসুমে লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে অপরাজিত ৭০ এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে মাস্টারক্লাস ৯০ রানের ইনিংস।
সাঞ্জুর মতো অভিজ্ঞ সেনাকে ছেড়ে দিল্লী সামিরের মতো তরুণের উপরে যে ভরসা রেখেছিল, তা যেন ষোল আনাই পূর্ণ করছেন তিনি। আইপিএলের এই বর্ণিল মঞ্চে অনেক প্রতিভাই ঝরে পড়ে এক মৌসুম পারফর্ম করেই। কিন্তু সামির রিজভি দেখিয়ে দিলেন কীভাবে তিলে তিলে নিজেকে নিয়ে যেতে হয় সাফল্যের চরম শিখরে।












