জাপান বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চেরি ব্লসম আর প্রযুক্তির ঝকঝকে সব উদ্ভাবন। সেই সামুরাইদের দেশে এবার ধীরলয়ে দানা বাঁধছে ক্রিকেটের উন্মাদনা। কেবল নিছক শখের বশে নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে বাইশ গজে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (জেসিএ)।
আগামী মাসেই পর্দা উঠতে যাচ্ছে জাপান প্রিমিয়ার লিগের (জে্িলে)। আর এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে জাপানি উপকূলে বইছে উত্তেজনার হাওয়া। মাঠের লড়াইয়ে গ্ল্যামার যোগ করতে আসছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক দ্বিমুথ করুনারত্নে, নেপালের পেস সেনসেশন কারাণ কেসি এবং বিগ ব্যাশ লিগের পরিচিত মুখ জশ ব্রাউনের মতো ক্রিকেটাররা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো জাপানের ক্রিকেটারদের ত্যাগের গল্প। জাপানে ক্রিকেট এখনো জীবিকার গ্যারান্টি দেয় না। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যারা মাঠে নামেন, ব্যক্তিগত জীবনে তারা কেউ গভীর মনোযোগী ছাত্র, কেউ বা সাধারণ কর্মজীবী। দেশের জন্য যখন তারা ব্যাটে-বল তুলে নেন, তখন ফুরিয়ে যায় তাদের সারা বছরের অর্জিত ব্যক্তিগত ছুটি।

জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এই রূপকল্পটি কেবল কোনো শুকনো দাপ্তরিক ফাইলের নথিপত্র নয়, বরং একটি বৃক্ষ বেড়ে ওঠার পরম কাব্যিক আখ্যান। তারা তাদের এই দীর্ঘ যাত্রাকে দেখছে একটি চারাগাছের ক্রমবিকাশের তিনটি ভিন্ন ঋতু হিসেবে। যার শুরুটা হয়েছিল ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের সেই নিভৃত কালখণ্ডে, যাকে বলা যায় শেকড়ের সন্ধান।
২০১৮ সাল থেকে বর্তমানে তারা পার করছে দ্বিতীয় অধ্যায়, যা মূলত শাখা-প্রশাখা আর ডালপালা মেলবার সময়। জাপানের প্রতিটি কোণায় কোণায় এখন ক্রিকেটের শক্ত কাণ্ড আর ভিত্তি গড়ে উঠছে, যা এক বিশাল মহীরুহ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে সবার দৃষ্টি এখন সেই কাঙ্ক্ষিত ২০২৭ সালের দিকে, যখন এই চারাগাছে আসবে পূর্ণ পুষ্পিত রূপ।
চলতি বছর এশিয়ান গেমসের আয়োজন জাপানের জন্য শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং নিজেদের মাটিতে ক্রিকেটের সুবাস ছড়িয়ে দেওয়ার এক মোক্ষম সুযোগ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুইবার অংশ নিয়ে তারা জানান দিয়েছে তাদের আগমনী বার্তা।

জাপানিরা বিশ্বাস করে, ধৈর্য আর সঠিক পরিচর্যা পেলে একটি ছোট চারাও একদিন মহীরুহ হয়ে ওঠে। ক্রিকেট নামক সেই মহীরুহের ছায়াতলে বসার অপেক্ষায় এখন সূর্যোদয়ের দেশ। হয়তো অচিরেই সবুজ গালিচায় ফুটে উঠবে সেই কাঙ্ক্ষিত ‘ক্রিকেট চেরি ব্লসম’।











