ক্রিকেটের ব্যাকরণ অনুযায়ী, একজন অলরাউন্ডার হলেন তিনি, যিনি দুই বিভাগেই দলের ত্রাতা হয়ে উঠবেন। কিন্তু মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন যেন ঠিক তার উল্টো। তিনি আদতে কোনো বিভাগেই ইম্প্যাক্ট রাখতে পারেন না। বছরের পর বছর ধরে ব্যাটে-বলে এই ‘ডাবল ফেইলর’ কি তবে কেবলই সময়ের অপচয় নয়?
আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট এখন আলোর বেগে এগোচ্ছে। অথচ সাইফউদ্দিনের বোলিং প্রোফাইল যেন সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। নাহিদ-ফার্গুসনদের এই যুগে ঘন্টায় ১২৫ কিলোমিটার গতির মাঝারি পেস দিয়ে ব্যাটারদের পরাস্ত করার দিন আর নেই।
কম গতি দিয়ে সফলতা পেতে করতে হয় বুদ্ধিবৃত্তিক বোলিং। থাকতে হয় কাটার, সুইং কিংবা নাকল বল মারার মতো স্কিল। কিন্তু সাইফউদ্দিনের না আছে গতি, না আছে তেমন বিশেষ কোনো স্কিল।

সাইফউদ্দিন অবশ্য নিজে দাবি করেন তিনি একজন ভালো মানের ব্যাটার। পরিস্থিতির চাপে নাকি ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখাতে পারেন না। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের প্রায়সই উইকেটে যাওয়া-আসার মিশেলের কল্যাণে অনেক সুযোগই সাইফের সামনে আসে। কিন্তু দুই-এক ম্যাচ বাদ দিলে তার ব্যাটিং পরিসংখ্যান মা ভবানীকেই স্মরণ করায়।
দলে যখন তানজিম সাকিবের মতো অলরাউন্ডার কিংবা সাকলাইনের মতো ব্যাটিং পারদর্শী পেসাররা আছেন। তখন এত বছর ধরে সুযোগ পেয়ে আসা সাইফউদ্দিনকে বার বার খেলানো এক অর্থে সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই না।
২০২২-এর নিউজিল্যান্ড ট্রাই সিরিজ কিংবা ২০২৪-এর জিম্বাবুয়ে সিরিজ, প্রতিবারই তিনি প্রমাণ করেছেন আধুনিক ক্রিকেটের সাথে তার দূরত্ব আলোকবর্ষ সমান। টিম ম্যানেজমেন্ট যত দ্রুত এই রূঢ় সত্যটা বুঝতে পারত, ততই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য মঙ্গল হত।

কিন্তু তাকে ‘অবহেলিত’ ট্যাগ দেওয়া অন্ধভক্ত সমাজ আর বারংবার তাকে দলে ফেরানো টিম ম্যানেজমেন্ট বোধহয় ভাবেন তিনি তো আমাদের স্বপ্নের পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তিনি তো একাধারে কুমার সাঙ্গাকারা আর লাসিথ মালিঙ্গা। যিনি বোলিংটা করেন সাঙ্গাকারার মতো, আর ব্যাটিংটা মালিঙ্গা।











