ঘরের মাঠে ফিরবে কি রাওয়ালপিন্ডির সুখস্মৃতি?

প্রতিপক্ষ সেই পাকিস্তান, যাদের ডেরায় গিয়ে বছরখানেক আগেই ইতিহাস লিখে এসেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এবার লড়াইটা ঘরের মাঠে।

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও সাদা পোশাকে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ সেই পাকিস্তান, যাদের ডেরায় গিয়ে বছরখানেক আগেই ইতিহাস লিখে এসেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এবার লড়াইটা ঘরের মাঠে। যেখানে থাকবে গ্যালারির উন্মাতাল সমর্থন আর চিরচেনা কন্ডিশনের সুবিধা।

পরিসংখ্যানের ধুলোমাখা খাতা খুললে এক সময় পাকিস্তান ছিল বাংলাদেশের জন্য এক দুর্ভেদ্য দেয়াল। ১৩টি দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ের ১২টিতেই জয় ছিল পাকিস্তানিদের। বিপরীতে একটি মাত্র ড্র-ই ছিল বাংলাদেশের প্রাপ্তি।

কিন্তু ২০২৪ সালে এসে সেই পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙে টাইগাররা। রাওয়ালপিন্ডির মাটিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করা কেবল একটি সিরিজ জয় ছিল না। তা ছিল দীর্ঘ দুই দশকের আক্ষেপ মোচনের এক মহাকাব্য। প্রথম টেস্টে দশ উইকেটের দাপুটে জয় আর দ্বিতীয় টেস্টে ছয় উইকেটের জয় – টাইগারদের সেই বীরত্বগাথা এখনও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা।

রাওয়ালপিন্ডির সেই দাপট কি দেশের মাটিতেও বজায় থাকবে? প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের পরিকল্পনায় এবার তারুণ্য আর অভিজ্ঞতার এক দারুণ ভারসাম্য দেখা যাচ্ছে। মুশফিক-মুমিনুলের সেই ক্লান্তিহীন ব্যাটিং আর মিরাজ-শান্তদের দায়িত্বশীলতার উপর ভর করেই এবার দেশের মাটিতে জয়ের ছক কষছে বাংলাদেশ। তবে দলে নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং অমিত হাসান।

বাড়তি উন্মাদনা থাকবে বোলিং বিভাগকে ঘিরে। বল হাতে দারুণ ফর্মে থাকা নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের উপর অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের জয়-পরাজয়। দলে আছেন এবাদত হোসেনও। মিরপুরের উইকেটে তাইজুল ইসলামের কার্যকরিতা তো সন্দেহের ঊর্ধ্বে।

বাংলাদেশ সফরের জন্য পাকিস্তানও এবার কোমর বেঁধে নামছে। প্রধান কোচ হিসেবে সাবেক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের নিয়োগ এবং কোচিং স্টাফে আসাদ শফিক ও উমর গুলের মতো কিংবদন্তিদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে তারা মরিয়া। নিশ্চিতভাবেই শাহিন শাহ আফ্রিদিরা চাইবেন টাইগার ডেরায় গতির ঝড় তুলে রাওয়ালপিন্ডির হারের প্রতিশোধ নিতে।

গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবার দেশের মাটিতে টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ। এরপর অনেক জল গড়িয়েছে পদ্মা-মেঘনায়। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংগত করার এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইবেন না শান্ত-মুশফিকরা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link