ছক্কার ওজন সবসময় ‘ছয়’ না!

ক্রিকেট মাঠে একটি ছক্কা মানেই কি শুধুই ছয়টি রান? দৃশ্যত আম্পায়ারের দুই হাত ওপরে তোলা মানে স্কোরবোর্ডে ছয়টি সংখ্যার যোগফল, কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটের গাণিতিক অন্তরালে লুকিয়ে আছে অন্য এক গল্প।

ক্রিকেট মাঠে একটি ছক্কা মানে কি শুধুই ছয়টি রান? দৃশ্যত আম্পায়ারের দুই হাত ওপরে তোলা মানে স্কোরবোর্ডে ছয়ের যোগফল, কিন্তু আধুনিক ক্রিকেটের গাণিতিক অন্তরালে লুকিয়ে আছে অন্য এক গল্প। গ্যালারির উন্মাদনা বা ব্যাটারের পেশিশক্তি নয়, বরং পরিস্থিতির জটিল বুননই ঠিক করে দেয় সেই ছক্কাটির প্রকৃত ওজন কতটুকু। এমনটাই উঠে এসেছে ক্রিকইনফোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে।

তথ্য বিশ্লেষকরা এখন একটি নতুন শব্দ ব্যবহার করছেন -‘ডেল্টা’। এর কাজ হলো একটি ডেলিভারির আগে এবং পরে ইনিংসের সম্ভাব্য লক্ষ্যের ব্যবধান মাপা। সোজা কথায়, কোনো দল যখন অনেক ভালো অবস্থানে থাকে, তখন সেখান থেকে একটি ছক্কা আসাটা গাণিতিকভাবে প্রত্যাশিত। তাই সেই ছক্কাটি ইনিংসের ভবিষ্যৎ খুব বেশি বদলে দেয় না।

কিন্তু যখন কোনো দল খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে ধুঁকতে থাকে, তখন একটি ছক্কা পুরো ইনিংসের গতিপথ আমূল পাল্টে দেয়।  অর্থাৎ, যা আগে থেকেই নিশ্চিত বলে ধরা হয়, সর্বক্ষেত্রেই তার প্রভাব তুলনামূলক কম। ক্রিকেটের মাঠেও এর প্রতিফলন স্পষ্ট।

চলতি মৌসুমে গুজরাটের ব্যাটার শাহরুখ খানের এক বিধ্বংসী ছক্কার কথা ধরা যাক। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে যখন তার দল মাত্র ৫৮ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বিপর্যস্ত, তখন তার এক একটি ছক্কা দলের প্রত্যাশিত টোটালকে মুহূর্তেই ১১.৪ রান বাড়িয়ে দিচ্ছিল।

এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যায় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হেনরিখ ক্লাসেনের ক্ষেত্রে। দল যখন দুই উইকেটে ২২৬ রানের পাহাড়ে চড়ে বসেছে, তখন তার মারা বিশাল ছক্কাটি স্কোরবোর্ডে ছয় যোগ করলেও ইনিংসের প্রোজেক্টেড স্কোরে প্রভাব ফেলেছে মাত্র দেড় রান। কারণ, ওই ঝোড়ো পরিস্থিতিতে ব্যাটাররা ছক্কা মারবেন, তা গাণিতিক মডেল আগে থেকেই ধরে রেখেছিল।

সাধারণ দর্শকরা বোধহয় মনে করেন ডেথ ওভারের ছক্কাই হয়তো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। কিন্তু গাণিতিক বিচারে পাওয়ারপ্লে বা মাঝের ওভারের ছক্কাগুলো অনেক বেশি শক্তিশালী। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাওয়ারপ্লেতে একটি ছক্কার গড় মান ৫.০৬ রান, যেখানে ডেথ ওভারে সেটি কমে দাঁড়ায় ৪.২৯ এ।

দিনশেষে ক্রিকেট কেবল ব্যাটে-বলের লড়াই নয়, এটি সময়ের গুরুত্ব বোঝার খেলা। একটি ছক্কা কখন মারা হচ্ছে, কার বিপক্ষে মারা হচ্ছে এবং দলের অবস্থা তখন কেমন – এই তিনটি জিনিসের ওপরই নির্ভর করে ঐ শটের প্রকৃত সার্থকতা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link