বিলাসের ভিড়ে সে একলা ঋষি

চারপাশে ডিজে আর পার্টি। দামী পানীয়ের ফোয়ারা। অথচ উৎসবের সেই ভিড়ে একদম শান্ত এক তরুণ।

​আইপিএলের রঙিন রাত। চারপাশে ডিজে আর পার্টি। দামী পানীয়ের ফোয়ারা। অথচ উৎসবের সেই ভিড়ে একদম শান্ত এক তরুণ। হাতে ককটেল গ্লাস নেই। আছে স্রেফ এক গ্লাস উষ্ণ হলুদ দুধ। ২৩ বছরের এই তরুণের নাম সলিল আরোরা।

ক্রিকেটের এই কৃত্রিম আলোর মাঝেও যিনি এক নির্লিপ্ত সাধক। প্রতিদিন ভোরে যার দিন শুরু হয় মন্দিরের শান্ত আঙিনায়। গ্ল্যামারের মায়াজাল তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ, তার চোখে লেগে আছে বাবার দেখা এক অপূর্ণ স্বপ্নের ঘোর।

জাসপ্রিত বুমরাহকে দেখে ভারতের গোটা এক জেনারেশন বোলিং প্রেমে পড়েছে। অথচ বুমরাহর ডেলিভারিকে স্রেফ না তাকিয়েই গ্যালারিতে পাঠিয়ে দিলেন তিনি। তার সেই ‘নো-লুক সিক্স’ এখনো ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে লেগে আছে। মাত্র দশ বলে তিন ছক্কায় ৩০ রানের সেই ক্যামিও ইনিংসই তাকে রাতারাতি চিনিয়েছে নতুন এক সলিল হিসেবে।

সলিলের এই প্রতিভা প্রথম বড় পরিসরে ধরা দেয় ঝাড়খন্ডের বিপক্ষে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফির এক ম্যাচে। ঝাড়খন্ডের অধিনায়ক ঈশান কিষাণ তখন উইকেটকিপিং গ্লাভস হাতে অবাক হয়ে দেখছিলেন ৪৫ বলে সলিলের ১২৫ রানের সেই বিধ্বংসী তাণ্ডব। ১১টি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংসটিই সলিলের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয়।

​টুর্নামেন্টে ১৯৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে ৩৫৮ রান করা সলিলকে নজরে রাখেন ঈশান। নিলামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ দেড় কোটি টাকায় তাকে দলে নিলে সেখানেও ঈশানের সাহচর্য পান তিনি। অধিনায়ক হিসেবে ঈশান সবসময় সলিলকে অভয় দিয়ে বলেন, ‘তুই যেভাবে খেলিস, সেভাবেই খেল।’ বেশি ভাবার দরকার নেই।’ কোচের মতে, সলিলের ওপর এই ভরসাই তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

সলিলের এই রঙিন সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক বিষণ্ণ অতীত। দুই বছর আগে বাবাকে হারিয়েছিলেন তিনি। বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে একদিন ভারতের নীল জার্সি গায়ে জড়াবে। সেই স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে সলিলের বড় ভাই নিজের কাঁধে তুলে নেন সংসারের জোয়াল, যাতে সলিলের অনুশীলনে কোনো কমতি না থাকে।

বাবার দেখা অর্ধেক স্বপ্ন সলিল আজ পূরণ করেছেন। তিনি আইপিএলে খেলছেন, বুমরাহর মতো বোলারকে শাসন করছেন। এখন অপেক্ষা শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণ করে তিনি ভারতের জাতীয় দলের ক্যাপ মাথায় তুলবেন। কোচের বিশ্বাস, সলিলের এই নিবেদন তাকে খুব শীঘ্রই সেই শিখরে পৌঁছে দেবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link