আক্ষেপে পুড়ছিল চেন্নাই সুপার কিংস। আর পোড়াচ্ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। যে আশা নিয়ে তাকে আনা হয়েছিল, সেটা হয়ে গেল এক ভাঙা স্বপ্ন। তবে কিছুটা টাল সামলে নিতেই একটু দেরি হয়ে গেল সাঞ্জুর। চেন্নাই একটা বুলি আওড়ে গিয়েছে শুরুর দিকে, সবুরে মেওয়া ফলে। সেটাই ফলে, সাঞ্জু পরিণত হয়েছেন চেন্নাইয়ের রান মেশিনে।
দিল্লির বিপক্ষে লড়াইটা সহজ করে দিয়েছিলেন বোলাররা। লক্ষ্যটা মাত্র ১৫৬ রানের। আইপিএল, এখানে এই স্কোর হেসে খেলেই উড়িয়ে দেওয়া যায় যদি না কোনো অঘটন ঘটে। সেটা ঘটতে দেননি সাঞ্জু। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। খেলেছেন ৫২ বলে ৮৭ রানের অনবদ্য এক নক।
শুরু থেকেই ছিলেন আত্মবিশ্বাসী, দৃঢ়। কোনো তাড়াহুড়া নয়, কোনো অযথা ঝুঁকি নয়—কেবল হিসেবি আগ্রাসন। ইনিংসটা গড়লেন নিজের মতো করে, ধীরে ধীরে ম্যাচটাকে নিয়ে গেলেন নিজের নিয়ন্ত্রণে। আর যখন সময় এলো, তখন খুলে দিলেন শটের ঝাঁপি।

সাঞ্জু যখন ছন্দে থাকেন, তখন তিনি কেবল একজন ব্যাটার নন—তিনি হয়ে ওঠেন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তি। বোলারদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়, লাইন-লেন্থ এলোমেলো হয়ে পড়ে। যেন বলটা তার ব্যাটেই আসতে বাধ্য। আর সেই ছন্দে থাকা সাঞ্জুকে থামানোর ক্ষমতা থাকে না কারও। দিল্লি সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।
আট উইকেট হাতে রেখে জয়—এটা শুধু একটা জয় নয়, এটা আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম। এটা চেন্নাইয়ের জন্য নতুন করে স্বপ্ন দেখার উপলক্ষ। প্লে-অফের দৌড়ে যেখানে তারা পিছিয়ে পড়ছিল, সেখানে এই জয় যেন অক্সিজেনের মতো কাজ করল।
আক্ষেপের আগুন থেকে উঠে এসে যিনি হয়ে উঠলেন আশার আলো—সেই সাঞ্জু স্যামসনই এখন চেন্নাইয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা। আর যদি এই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তবে এই দলটাকে থামানো সত্যিই কঠিন হয়ে যাবে।











